নীতিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ প্রত্যাশা শিক্ষিত গভর্নিং বডি

39

শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের পরিচালনা পরিষদের কার্যকরী কমিটির নেতৃত্বে থাকা কর্তা ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্ট বোর্ড কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের শিক্ষার মান আর যারা গভর্নিং বডিতে কর্তৃত্বের আসনে তাদের শিক্ষার ব্যাপারটি নজরে এনে সংশ্লিষ্ট পরিষদের নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। এই মর্মে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. হারুন অর রশিদ অভিমত ব্যক্ত করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যকরী পরিষদের সক্রিয় প্রতিনিধিরা ক্ষমতার জোরে মূল নেতৃত্বে চলে আসেন। সেখানে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে বিশেষ মূল্যায়ন করা হয় না। সংসদ প্রতিনিধি, স্থানীয় নেতা একেবারে সভাপতির আসন নির্ধারণ করতে ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। অনেক সময় এটাও দৃশ্যমান হয়, যাকে নির্বাচিত করা হচ্ছে তিনি প্রাইমারি শিক্ষার গ-িও পেরোননি। আগে এমনটি ছিলো না। ২০০৯ সালের ৮ জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপনে কলেজ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয় গভর্নিং বডিকে। নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি নির্ধারণ হলেও স্থানীয় সংসদ প্রতিনিধির সুপারিশে সভাপতির আসনটি অলঙ্কৃত হয়। ফলে স্বল্পশিক্ষিত সভাপতি কলেজ পরিচালনা কমিটির মূল দায়িত্বে চলে আসেন। যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানসম্মত কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এসব বিবেচনায় এনে শিক্ষা বোর্ড নতুন করে পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের শিক্ষাগত মান নির্ধারিত করে প্রচলিত নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী হচ্ছে। গভর্নিং বডি শিক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনেক কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকেন। ফলে তাদের গৃহীত কর্মপ্রক্রিয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। সুতরাং সেখানে সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যের লেখাপড়ার বিষয়টি যদি গুরুত্ব না পায়, তাহলে এই পবিত্র অঙ্গনটি তার মর্যাদা হারাতে পারে। শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষিত ব্যক্তিরা কমিটির মূল দায়িত্বে থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। বই, গবেষণাগার, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিসহ শিক্ষা উপকরণের আনুষঙ্গিক বিষয়ের মূল দায়িত্বে থাকে সরকার। কিন্তু নিয়োগ ও ভর্তি বাণিজ্যে যে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয় সেখানে কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের থাকে সক্রিয় ভূমিকা। এমন অভিযোগও করা হয়েছে, দায়িত্বে থাকা কর্তা ব্যক্তিরা বেনামে অর্থ অপচয়ের মতো অপকর্মও করে থাকেন। কিন্তু শিক্ষা সংক্রান্ত, জ্ঞান বিস্তারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কর্তব্যের প্রতি এসব নেতার তেমন নজির দেখা যায় না। ফলে শিক্ষা বিষয়ক মৌলিক বিষয়গুলো বিভ্রান্তির কবলে পড়ে। সুতরাং কার্যকরী পরিষদের নির্বাচিত সদস্যের ব্যাপারে নতুন নীতিমালায় উচ্চ শিক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আনা বাঞ্ছনীয়। শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচক প্রাতিষ্ঠানিক অপকৌশলের শিকার হলে মানোন্নয়নের যথার্থ ব্যাপারটি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই নতুন বিধিবিধান প্রবর্তন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো মহৎ কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী এবং মানসম্মত করতে শিক্ষা বোর্ড বিশেষভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে।