নিয়ম যেখানে অসহায়

466

গাংনী অফিস: একজন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হয়ে ৮ বছরে অফিস কক্ষে লাগাননি বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি নিজের বাবাকে দীর্ঘ ৮-৯ বছর ধরে অনিয়ম করে সভাপতি বানিয়ে স্লীপ ও বিদ্যালয় ভবনের মেরামত বাবদ টাকা তুলে আত্মসাৎ করে চলেছে। অভিযোগের বিষয়ে উপহাস করে প্রধান শিক্ষক সাহিদুল ইসলাম বলেন, ছবি নেই তো কি পোষ্টার লাগানো তো আছে। পোষ্টারও তো ছবি। ঘটনাটি ঘটেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার খরমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জানা গেছে, গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের খরমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠা হয়। বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবির মুখে ২০১৩ সালের দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারী স্কুল গুলোকে সরকারী করে দেন। ২০১৩ সালের পর থেকে এপর্যন্ত খরমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি লাগানো হয়নি বিদ্যালয়টিতে। এরআগে গাংনী উপজেলার কয়েকজন শিক্ষক বারবার তাকে অবহিত করার পরেও তিনি ছবি লাগাননি। এদিকে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিজের বাবাকে বানিয়ে সিলিপের টাকা তসরুপ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত বছরে বিদ্যালয় মেরামতের নাম করে নাম মাত্র কাজ করে বাকি টাকা পকেটস্থ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সরকারী চাকুরী থাকাকালিন সময়ে ধানখোলা ইউনিয়ন বিএনপির দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। গত বছরে নতুন কমিটি হলে তিনি বাদ পরেন। গ্রামের মন্ডল সিরাজুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ে ৮-৯ বছর ধরে গোপনে কমিটি করে থাকে। সে প্রধান শিক্ষক তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষিকা ও কৌশলে বাবাকে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি করে রেখে নিজের মত স্কুল চালায়। স্কুলে কি হয় না হয় কিছুই জানায় না কাউকে। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলে না। কয়েক বছর ধরে শুনি সরকার সিলিপের টাকা দেই। কিন্তু স্কুলের কোন কাজ চোখে পরেনি। এব্যাপারে প্রধান সাহিদুল ইসলাম প্রথমে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ছবি লাগানো বাধ্যবাধকতা নেই। পরে আবার টেবিলের কাচের নিচে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ও দেওয়ালের এক পাশে বঙ্গবন্ধুর পোষ্টার লাগানো দেখিয়ে বলেন ওই যে ছবি। তাছাড়াও সিলিপের টাকার বিষয়ে বলেন, কিছু কিছু কাজ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কোন কাজ দেখাতে ব্যর্থ হয়। এব্যাপারে সহকারী শিক্ষা অফিসার এটিও সামসুজোহা  প্রথমে বলেন, বিদ্যালয়ে ছবি লাগানো আছে। পরে প্রধান শিক্ষকের সাথে বলে তিনি বলেন নেই তবে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে লাগানো হবে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফারুক উদ্দীন জানান, প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু ছবি লাগানো বাধ্যতামূলক তাই ছবি লাগাতে হবে। আমি নতুন এসেছি তাই অনেক বিষয়ে অবগত নয়। তবে বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেব।
জেলা শিক্ষা অফিসার জেছের আলী জানান, ছবি না লাগিয়ে থাকলে আজই তদন্ত কমিটি গঠন করে দিচ্ছে। তদন্তে ছবি না লাগানো, সিলিপের টাকা তসরুপ ও সরকারী চাকুরী করে দলীয় কোন পদে ছিলেন এমন বা অনিয়মের কোন প্রকার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ-উজ-জামান বলেন, এবিষয়ে খোজ খবর নিয়ে দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ বলেন, তিনি ছবি না লাগিয়ে থাকলে শিক্ষা অফিসের সাথে বলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।