নিস্তব্ধ পুরো চুয়াডাঙ্গা শহর

1651

মেহেরাব্বিন সানভী:
প্রতিদিনের মতো করে সূর্য উঠছে আকাশে। আলো ছড়িয়েছে চারদিকে। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৫০ বছর পূর্তি আজ। তবুও নেই কোথাও বাজনা, নেই আনন্দের ছোঁয়া। গত ৫০ বছরে এইদিনটিতে যে স্টেডিয়াম মাঠে ছিলো হাজার মানুষের ভিড়, ছিলো কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এবার সেখানে একটিও মানুষ নেই, নেই কোনো প্যান্ডেল। নেই মানুষের সমাগম। পুরো চুয়াডাঙ্গা শহর যেন রূপ নিয়েছে নীরবতা পালনের।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং রাস্তায় চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে রাস্তায় থাকতে দেওয়া হবে না। কেউ বের হলে তাঁকে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হবে। এদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সারাদেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গাতেও গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি সেবার যান চলাল করছে।
বড়বাজার, কোর্ট মোড়, শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, কোর্ট রোডসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃংখলাবাহিনী অবস্থান নিয়ে আছেন। একসাথে দুজন দেখলে সচেতন করে দেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার দেখলেই থামাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী।
অন্যদিকে রেল চলাচল বন্ধ, যার ফলে রেল স্টেশন প্রায় ফাঁকা। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় নীরব রয়েছে পুরো স্টেশন। গণপরিবহনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সড়কে গণপরিবহন কম দেখা যাচ্ছে।
শহরের বাস টার্মিনালে দেখা যায়নি তেমন লোকসামগমের। শহরের সবথেকে ব্যস্ততম স্থান বড় বাজার চৌরাস্তার মোড়। রাত ১২টা, কিংবা ভোর ৪টা কমপক্ষে হাতে গুণে ৫০জন মানুষের উপস্থিতি তো পাওয়াই যেত। আর দিনের কথা নাই বা বললাম। হাজার হাজার মানুষের চলাচল এ স্থান দিয়ে। আজ সেই চৌরাস্তার মোড়ে হয়তবা গুণে ১০জন পাওয়া যেতেও পারে। তবে তাঁরাও আইনশৃংখলাবাহিনী। প্রতিদিন সকালে যে মাছের আড়তে থাকতো মাছ ব্যবসায়ীদের পদচারণা, মাছের দরদাম হাঁকা, আজ প্রায় শূণ্য সে মাছের বাজার। সবজি থেকে শুরু করে প্রায় সকল ধরনের দোকান পাট বন্ধ। তবে ওষধসহ নিত্যপণ্যের দোকান অল্প কিছুসংখ্যক খোলা আছে। বেশ কিছু ওষধের দোকানও বন্ধ দেখা গেছে। ইতিহাসের পাতায় চুয়াডাঙ্গা শহরের এ যেন এক নতুন রূপ।