নিজে সচেতন হোন, অন্যকে সচেতন করুন

72

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় ডিসি গোপাল চন্দ্র দাস
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা-সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি’ প্রতিপাদ্যে গতকাল রোববার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখতে ও মশা নিধনে আমাদের কাজ করতে হবে। নিজের জায়গা নিজেকেই পরিষ্কার করতে হবে। আগে নিজে সচেতন হোন, তারপর অন্যকে সচেতন করুন। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক ৬ আগস্ট সকাল নয়টা থেকে বেলা দুটা পর্যন্ত সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার করবে।’ বাসমালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে বাস ছাড়ার সময় বাসের সব স্থানে স্প্রে করতে হবে। ফেরিতে ওঠার পর আরেকবার স্প্রে করতে হবে। কোনোভাবেই যেন এডিস মশা চুয়াডাঙ্গায় বিস্তার লাভ না করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিজ আঙ্গিনা যেমন পরিষ্কার রাখতে হবে, ঠিক তেমনই শ্রেণিকক্ষে ডেঙ্গু সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমি, তুমি, সে, তারা নিয়েই বাংলাদেশ। যদি ভাবা হয় তুমি, সে, তারা করবে, তাহলে হবে না। মনে করতে হবে, আমি আগে করব।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার) বলেন, ‘সবাই মিলে কাজ করলে কাজটি সহজ হয়। এখন সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আগে সচেতন হওয়া। ১৯৬৭ সালে এডিস মশা বাংলাদেশে এলেও ২০১৯ সালে এর প্রকোপ বেশি হয়। চীন-ভারত যদি এটাকে মোকাবিলা করতে পারে, আমরাও পারব ইনশা আল্লাহ।’
সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। ভ্রান্ত ধারণা বিশ্বাস করা যাবে না, প্রয়োজন সচেতনতার। এখন পর্যন্ত আমরা এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাইনি যে চুয়াডাঙ্গাতে এডিস মশা আছে। হাসপাতালে চিকিৎসার সব ব্যবস্থা আছে আমাদের।’
চুয়াডাঙ্গার পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, ‘সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা পৌসভার কর্মচারীরাও একদফা দাবিতে বেশকিছু দিন ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান বন্ধ নেই। আমি নিজে এ কাজ করছি এবং এটাকে অব্যাহত রেখেছি। শহরে প্রতিদিনই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি অধিক রাত পর্যন্ত এ অভিযান চলছে।’
সভার শুরুতে ডেঙ্গু সম্পর্কে প্রেজেন্টেশন করেন সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীম কবির। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খোন্দকার ফরহাদ আহমদ ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আরিফ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াশীমুল বারী, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন আলি, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপ্তীময়ী জামান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সী আলমগীর হান্নান। এ ছাড়াও সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।