নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিপুল জয়ে ফের মেয়র আইভী

204

hhhh

সমীকরণ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। ১৭৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬০২ ভোট। অপর দিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৭০০ ভোট। এ ক্ষেত্রে ৭৭ হাজার ৯০২ ভোট বেশি পেয়ে আইভী জিতেছেন। এর আগে উৎসবমুখর পরিবেশে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হয়। সকাল ৮টা থেকে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীন ভোটগ্রহণ চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচন নিয়ে আইভী ও সাখাওয়াতের ছোটখাটো কিছু অভিযোগ ছিল। কিন্তু গুরুতর অনিয়মের কোনো অভিযোগ তাদের তুলতে দেখা যায়নি। নির্বাচন চলাকালে তেমন কোনো অপ্রীতিকর বা সহিংস ঘটনার খবরও মেলেনি। শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, অনিশ্চয়তা-শঙ্কা থাকলেও ওই সময় পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সন্তোষজনক ছিল। দুপুরের দিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে, উৎসবমুখর হচ্ছে। বেলা আড়াইটার দিকে ভোট দিতে গিয়ে আলোচনার জন্ম দেন সরকারদলীয় সাংসদ শামীম ওসমান। আইভীকে ভোট দিয়ে সেই ব্যালট পেপার উপস্থিত সবাইকে দেখান তিনি। বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোট হওয়ার কথা জানান সেখানে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দেলোয়ার হোসেন দিলু। সকালের পশ্চিম দেওভোগ এলাকার শিশুপার্ক স্কুলের ওই কেন্দ্রে ভোট দেন আইভী। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিলু বলেন, ‘এটা আইভীর কেন্দ্র। এখানে অর্ধাঅর্ধি ভোট পাইলেই আমরা খুশি।’ কেন্দ্রের ভেতরে পোলিং এজেন্টরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জেলা বিএনপির নেতারা খোঁজখবর করছেন, আমরা তাদের বলেছি, সার্বিক অবস্থা ভালোই। এ পর্যন্ত ১৬ নাম্বার ওয়ার্ডের মোট ৫টি কেন্দ্র থেকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।’ সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৯৫ ভোটের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন ভোট দিয়েছেন বলে জানান ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। ১৭ নাম্বার ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা হাজী সেলিম মিয়াও সেখানে সুষ্ঠু ভোট হওয়ার কথা জানান। ওয়ার্ড বিএনপির এ সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘এই এলাকায় এমনিতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সবসময় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ। ভোটগ্রহণও সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ হচ্ছে।’ ওয়ার্ডের অন্যান্য কেন্দ্র থেকেও কোনো খারাপ খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। নগরীর শহীদনগরের নতুন গোপনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারীদের কেন্দ্রেও ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হওয়ার কথা জানান প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তৌহিদ রেজা। দুপুর ১২টায় তিনি বলেন, সার্বিক অবস্থা ভালো। এখন পর্যন্ত ৪০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। এই সংখ্যা ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তার মতো বিএনপির পোলিং এজেন্ট রুমা আক্তারও ভোট শান্তিপূর্ণ হওয়ার কথা জানান। সব কক্ষেই দলের পোলিং এজেন্ট আছে বলে জানান তিনি। ১৮ নাম্বার ওয়ার্ডের ১৩ নাম্বার নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর কথা হয় ভোটার মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে।
নবীগঞ্জ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম বলেন, এই কেন্দ্রে ৩৩শর মতো ভোটার আছে, যার অর্ধেকই নারী। সকাল ১০টা পর্যন্ত ৭০০র মতো ভোট পড়েছে। সকাল ৯টার দিকে ২৪ নাম্বার ওয়ার্ডের কদম শরীফ প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কথা হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই কামাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই কেন্দ্রে কোনো ধরনের ঝামেলা-বিশৃঙ্খলা নেই। ঝামেলা হওয়ার আশঙ্কা নেই। দুই হাজার ৫৪টি ভোটের এই কেন্দ্রে মাত্র চারটি বুথ ও জায়গার সংকীর্ণতার কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তিনি। কেন্দ্রে কেন্দ্রে নৌকা, ধানের শীষসহ অন্যান্য প্রার্থীর এজেন্টদের ব্যস্ত দেখা গেছে। তাদের কারও মুখে ছিল না কোনো অভিযোগ। দলীয়ভাবে ও দলীয় প্রতীকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনেই প্রথম ভোট হলো। এর আগে সব সিটি করপোরেশনে দলনিরপেক্ষ ভোট হয়েছে। দলীয় প্রতীকে হওয়া নির্বাচনগুলো নিয়ে একের পর এক অভিযোগ ওঠার মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। গত ২৪ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অভিযোগ ওঠেনি। প্রার্থীদের মধ্যে একে অপরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেয়ার ঘটনাও ছিল কম। দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মোট ২০১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মেয়র পদে লড়াই করেন সাতজন। যদিও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী কামাল প্রধান ও কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান। অন্য তিন প্রার্থী হলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মাহবুবুর রহমান ইসমাইল (কোদাল), ইসলামী আন্দোলনের মাসুম বিল্লাহ (হাতপাখা) ও ইসলামী ঐক্যজোটের ইজহারুল হক (মিনার)। ২৭ নং ওয়ার্ডে ২৭টি কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ১৫৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ৯টি পদে ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে প্রথম ভোট হয় ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর। নির্দলীয় ওই নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভী ১ লাখ ৮০ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমান পেয়েছিলেন ৭৮ হাজার ভোট। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ভোটের সাত ঘণ্টা আগে সরে দাঁড়ান।