নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান

131

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন
সমীকরণ প্রতিবেদন:
শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, র‌্যালি, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহের সরকারি-বেসরকারি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করেছে।
চুয়াডাঙ্গা:
মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকা-ের শিকার হওয়া বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এ দিনে দেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিল্পী, লেখক ও সাংবাদিকসহ অন্য মেধাবী বাঙালিকে বাড়ি থেকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে ধরে নিয়ে নৃশংসভাবে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে গতকাল শনিবার ভোরে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের শহীদ হাসান চত্বরে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তর্বক অর্পণ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাসির উদ্দীন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, অ্যাড. মুহা. শামসুজ্জোহা, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দীন হেলা, জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা চেয়ারম্যান নাবিলা রুখসানা ছন্দা, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গরিব রুহানী মাছুম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহাজাদী আলম মিলি প্রমুখ। এর আগে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পরে ফুল দিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানান পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম। শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্যানেল মেয়র মুন্সী রেজাউল করিম খোকন, কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনিসহ পৌর পরিষদ, সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আজিজুর রহমান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, আওয়ামী লীগের নেতা টিপু সুলতান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মতিয়ার রহমান মতি, সদস্য আবু তাহের, খায়রুল ইসলাম, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা মাসুমা আক্তার, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হুসাইন জ্যাকি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য গাজী ইমদাদুল হক সজল, সজীব ওয়াজেদ জয় পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি ফারহান রাব্বি, ছাত্রলীগের নেতা সানজিদ আহমেদ, তানজিল তন্ময়, তৌফিক এলাহি প্রমুখ। শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস, পেশাজীবী, রাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষক-ছাত্র ও সাধারণ মানুষ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিকে, সন্ধ্যায় শহীদ বেদীতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বিন¤্র চিত্তে স্মরণ করা হয়। মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামসহ অন্যরা।
পরে শহীদ হাসান চত্বর মুক্তমঞ্চে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘পাকিস্তানি শত্রুরা যখন বুঝতে পারল, তারা পরাজিত হতে বসেছে, ঠিক তখনই তারা ষড়যন্ত্র করল এই দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য। এ দেশকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যেই তারা ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। জাতিকে মেধাশূন্য করতে চেয়েছিল তারা। আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সেই আলোকিত বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করি। যখন কোনো শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যের কথা শুনি টেলিভিশনে, তখন বুকটা ফেটে যায়। কত ত্যাগ স্বীকার করে আমরা আজ এই জায়গায়। আমাদেরকে বুঝতে হবে কত কষ্ট করে আমরা এই স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে আমাদের ভালোবাসতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি:
নানা আয়োজনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগ। জেলা আ.লীগের দপ্তর সম্পাদক আবু তালেব বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৭টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিত রাখার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করা হয়। বিকেল চারটায় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাসির উদ্দিন ও খুস্তার জামিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন ও অ্যাড. শামসুজ্জোহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান ও মুফতি মাসুদুজ্জামান লিটু বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. আবু তালেব বিশ্বাস, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আরশাদ উদ্দিন চন্দন, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক হাবিল হোসেন জোয়ার্দ্দার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মালিক, সদস্য অ্যাড. বেলাল হোসেন, মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী আফরোজা পারভীন, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান নাবিলা রুখসানা ছন্দা, জেলা পরিষদের সদস্য নুরুন্নাহার কাকলী, নাজমুন্নাহার ময়নাসহ অন্য মহিলা নেত্রী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান নান্নু, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শাহাদৎ হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি এম জহুরুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন হেলা, শ্রমিক লীগের সভাপতি আফজালুল হক, সাধারণ সম্পাদক রিপন ম-ল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি সোহরাব হোসেন, যুবলীগের নেতা সাবেক আহ্বায়ক আরেফিন আলম রঞ্জু, আব্দুল কাদের, শামীম আহমেদ সুমন, আব্দুর রশিদ, টিপু টাইগার, ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক, সহসভাপতি শাহাবুল ইসলাম, ফিরোজ, তানিম হাসান তারেক, সোয়েব রিগান, অপু, রাজু, মোমিন, সোহেল, ই¯্রাফিল, রিয়ন ও অন্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে শহীদ হাসান চত্বরের শহীদ বেদীতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করা হয়।
আলমডাঙ্গা:


আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আলমডাঙ্গা বধ্যভূমিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন আলী, আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল বারি, সমাজসেবা কর্মকর্তা আফাজ উদ্দিন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক, বিআরডিবি কর্মকর্তা সায়লা সারমিন, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাকসুরা জান্নাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস সবেদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শেখ নুর মোহাম্মদ জকু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনদ্দিন ও প্রেসক্লাবের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল ইসলাম। পরে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন আলী। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্থানিরা যখন বুঝতে পারে তাদের পরাজয় নিশ্চিত, তখন তারা বাঙালিদের মেধাশূন্য করতে গণহত্যা শুরু করে এবং বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।
অপর দিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও নবনির্বাচিত ইউনিয়ন ও পৌর কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র হাসান কাদীর গনু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার বলেন, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে দখলদার পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্থানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যূদয় ঘটে। ৭১-এ ৩০ লাখ শহীদের মধ্যে বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যার ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তাঁরা শহীদ হন এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। হানাদার পাকিস্থানি বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নিধনের এ পরিকল্পনা করে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাড. বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ, প্রশান্ত অধিকারী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী খালেদুর রহমান অরুন, আতিয়ার রহমান, জেলা নির্বাহী সদস্য আবু মুসা, সিরাজুল ইসলাম, শাহ আলম ও জেলা চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টারের উপস্থাপনায় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও ছাত্রলীগের সভাপতি অ্যাড. সালমুন আহম্মেদ ডন, পৌর আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সম্পাদক মতিয়ার রহমান ফারুক, ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসাবুল হক ঠান্ডু, বিআরডিবি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলহাজ্ব লিয়াকত আলী লিপু, হামিদুল ইসলাম, শাহ আলম মণ্টু, প্রমুখ। সন্ধ্যায় উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বধ্যভূমিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। পরে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয়।
দর্শনা:


দর্শনায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে দর্শনা সরকারি কলেজের উদ্যোগে কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি স্তম্ভের পাশে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন দর্শনার রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে দর্শনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. শহিদুল ইসলাম, সাবেক অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মুনসুর বাবু, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আলম, মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম, দর্শনা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক গোলাম ফারুক আরিফ, সহকারী অধ্যক্ষ মফিজুর রহমান, দর্শনা সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ও গণউন্নয়ন গ্রহন্থাগারের পরিচালক আবু সুফিয়ান।
সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে বিজয়ের ঠিক দুদিন আগে পাকিস্তানি শাসকরা বুঝতে পেরেছিল বাংলাদেশ বিজয়রে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। সে কারণে দেশ ও জাতিকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য স্বৈরাচার শাসকরা এ দেশকে মেধাশূন্য করার লক্ষে বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। তার মধ্যে তৎকালীন সময়ে তিনজন বুদ্ধিজীবী শিক্ষক ছিলেন। যাদেরকে পাকবাহিনী ধরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁদের লাশও পাওয়া যায়নি বলে জানান বক্তারা। এদের মধ্যে ছিলেন অধ্যক্ষ লতাফত হোসেন জোয়ার্দ্দার, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক নাশির উদ্দিন। এ দিনে দর্শনা সরকারি কলেজের তিনজন বুদ্ধিজীবী শিক্ষক শহীদ হন। তাই প্রতিবছরই দর্শনা সরকারি কলেজের পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণে এ অনুষ্ঠান করা হয়ে থাকে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দর্শনা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আশরাফুল আলম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ মল্লিক, দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন তপু, সহসভাপতি রিপন, কামরুল হাসান লোমান, মিল্লাত রাসেল, রায়হান, প্রভাত, অপু, কলেজের সব শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা। অনুষ্ঠান শেষে কাস্টম কলোনি মসজিদের ইমাম শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন।
জীবননগর:
জীবননগরে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আ. সালাম ঈশা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আয়েসা সুলতানা লাকী ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।
মেহেরপুর:
মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ আলোচনা সভা, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে নীরবতা পালন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. ইবাদত হোসেন, পাবলিক প্রসিকিউটর পল্লব ভট্টাচার্য, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল হালিম, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক কে এম আতাউল হাকিম লাল মিয়া, মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ফজলুল হক মণ্টু, মেহেরপুর জেলা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি নুরুল আহমেদ, প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান রিটন, অরণির সভাপতি নিশান সাবের প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এদিকে, নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে পালিত হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শহরের কলেজ মোড়ে অবস্থিত শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমালা অর্পণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক কে এম আতাউল হাকিম লাল মিয়া, আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. পল্লব ভট্টাচার্য, প্রচার সম্পাদক বুলবুল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, উপপ্রচার সম্পাদক শ্বাশত নিপ্পন, সদর উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি জাফর ইকবাল, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সরফরাজ হোসেন মৃদুল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান হিরন, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু, শহর যুবলীগের সভাপতি শেখ কামাল, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এ কে আজাদ সাগর, যুবলীগের নেতা আল মামুন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কে এম বদরুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক প্রবির মিত্রসহ মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণে অংশ নেয়।
অপর দিকে, ‘আজ দুঃশাসনে কণ্ঠরুদ্ধ, মুক্ত কণ্ঠে বলতে চাই আমার কথা’ স্লোগানে মেহেরপুর জেলা বিএনপি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, মৌন মিছিল ও শহীদ স্মৃতিসৌধে মাল্যদান করেছে। গতকল শনিবার সকাল ১০টার দিকে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুর রহমান, ইলিয়াস হোসেন, আনছারুল হক, শেখ সাঈদ আহম্মেদ, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুনের নেতৃত্বে মৌন মিছিল বের করা হয়। মৌন মিছিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রশিদ, জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ওবায়দুল্লাহ সেণ্টু, পৌর বিএনপির সহসভাপতি ইদ্রীস আলী দেওয়ান, দপ্তর সম্পাদক আবু সুফিয়ান হাবু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাহাবুদ্দিন মোল্লা, মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদর উদ্দিন বিশ্বাস, পৌর বিএনপির সহসভাপতি হাজি ফজলু খাঁন, হাবিব ইকবাল, যুগ্ম সম্পাদক আবু ইউসুফ মিরন, হাফিজুর রহমান হ্যাপি, মেহেরপুর জেলা তাঁতী দলের সভাপতি আরজুল্লাহ বাবলু মাস্টার, জেলা যুবদলের সভাপতি জাহিদুল হক জাহিদ, যুগ্ম সম্পাদক মেহেদী হাসান রোকন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আজমুল হাসান মিণ্টু, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি আকিব জাভেদ সেনজিন, সহসভাপতি তৌফিক এলাহী সাকিল প্রমূখ। এ ছাড়াও শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এদিকে, মেহেরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জেলা আওয়ামী যুবলীগের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে পুষ্পমালা অর্পণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা তিনটার দিকে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সরফরাজ হোসেন মৃদুলের নেতৃত্বে শহরের কলেজ মোড়ে অবস্থিত শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমালা অর্পণ করা হয়। এ সময় জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান হিরন, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু, শহর যুবলীগের সভাপতি শেখ কামাল, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এ কে আজাদ সাগর, যুবলীগের নেতা আল মামুনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পল করেন।
অন্যদিকে, মেহেরপুর পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। মেহেরপুর পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সভানেত্রী মিসেস তাহেরা রহমানের সভাপতিত্বে গতকাল শনিবার দুপুরে মেহেরপুর পুলিশ লাইনন মিলনায়তন অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, হাসিবুল আলম, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইরিন ইসরাত, কোষাধ্যক্ষ রায়হানা তাহসিন, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ দারা খান, টিআই ইসমাইল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মহান বিজয় দিবসের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় মেহেরপুর শহরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশুরা অংশগ্রহণ করে।
গাংনী:


শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন উপলক্ষে গাংনী উপজেলা পরিষদের আয়োজনে নানা আয়োজন করা হয়। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এম এ খালেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক এমপি মকবুল হোসেন ও গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুর রহমান। পরে বিকেলে উপজেলা পৌর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, সাবেক এমপি মকবুল হোসেন, সাবেক মেয়র আহম্মেদ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সানোয়ার হোসেন বাবলু, সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম বাবু, যুবলীগের নেতা মোশারেফ হোসেনসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার সন্ধ্যায় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রভাতী সংঘ। গাংনীর প্রভাতী সংঘ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুধী সমাজ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ খোরশেদ আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের তাৎপর্য তুলে ধরেন বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক রফিকুর রশিদ রিজভী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন গাংনী প্রেসক্লাবের সভাপতি রমজান আলী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর কলেজের অধ্যক্ষ মোকাদেচ্ছুর রহমান, ডা. সজিব উদ্দীন স্বাধীন, রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, গাংনী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান লালু, মহিলা কলেজের প্রভাষক মহিবুর রহমান মিণ্টু, প্রভাষক আফরোজা পারভীন প্রমুখ। এদিকে, ভারত সফরে থেকেও অনুষ্ঠান আয়োজনের সার্বিক পরিচালনা করেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম শফিকুল আলম। এরপর র‌্যালিসহকারে শহীদ রেজাউল চত্বরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম, জেলা পরিষদের সদস্য মজিরুল ইসলাম, প্যানেল মেয়র নবীর উদ্দীন, মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ। এদিকে, রাতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম। এ সময় পৌরসভা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহ:
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহে আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বর থেকে এ আলোর মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে প্রেরণা একাত্ত্বর চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে শহীদ স্মৃতিসৌধে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি, জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দিবসটি উপলক্ষে পুরাতন ডিসি কোর্ট মুক্তমঞ্চে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সাংসদ তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মকবুল হোসেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদরুদ্দোজা শুভ প্রমুখ।
এদিকে, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঝিনাইদহ জেলা শাখার আয়োজনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঝিনাইদহ জেলা শাখার কার্যালয়ে এ মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র আলহাজ্ব সাইদুল করিম মিণ্টু, জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সরোয়ার জাহান বাদশা, জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খানজাহান আলী, পৌর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি অমিয় মজুমদার অপু, সহসভাপতি আলহাজ্ব সাংবাদিক এম এ জলিল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ফয়সাল প্রমুখ। সব শহীদ বুদ্ধিজীবীর আত্মার মাগফিরাত ও তাঁদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষ করা হয়।
কোটচাঁদপুর:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে যথাযথ মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গতকাল শনিবার সকালে স্থানীয় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুন্নেছা মিকি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল আলম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিয়াজ হোসেন ফারুক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাদিয়া আক্তার পিংকি, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তাজুল ইসলাম। উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সি ফিরোজা সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, সাংবাদিক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।