ধান কিনতে জেলা প্রশাসনের ব্যতিক্রম পরিকল্পনা

128

চুয়াডাঙ্গা জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
বিশেষ প্রতিবেদক:
আসছে আমন মৌসুমে ২৬ টাকা কেজি দরে ৬ লাখ মেট্রিক টন ধান কিনবে সরকার। আর এ সংগ্রহ কার্যক্রম ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হবে, চলবে ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবার প্রান্তিক চাষি/কৃষকদের সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন। ব্লক পর্যায়ে লটারির মাধ্যমে তৈরি করা হবে চাষিদের তালিকা। আর তালিকা অনুযায়ী প্রতি কৃষক ১৫ মণ ধান দিতে পারবেন সরকারি গোডাউনে। ফলে বিগত বোরো মৌসুমের থেকে আমন মৌসুমে অনেক বেশি সংখ্যাক কৃষক সরকারিভাবে ধান বিক্রির সুযোগ পনাবে। তবে আমন মৌসুমে যাঁদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে, বোরো মৌসুমে তাঁদের বাদ দিয়ে বাকি কৃষকদের কাছ থেকে তখন ধান সংগ্রহ করা হবে।
গতকাল রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল ইসলাম ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুফী রফিকুজ্জামানের উপস্থাপিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, এ পদ্ধতি ব্যবহার করলে কৃষকেরা সমান সুযোগ পাবেন। ধান-চাল সংগ্রহ খুব জটিল বিষয়। এ নিয়ে প্রতিবছরই জটিলতার সৃষ্টি হয়। এবারো ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে। তাই কোনো কৃষক যাতে ধান-চাল নিয়ে বিপাকে না পড়েন, সেসব দিক বিবেচনা করে সতর্ক নজর রাখা হবে।
অন্য বিভাগের আলোচনায় জেলা প্রশাসক বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা ঠিক না। সবাই মিলে কাজ করলে সব কাজই সহজ হয়ে যাবে। সবাইকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মাদক ও কিশোর অপরাধপ্রবণতা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি জেলখানা পরিদর্শনে গিয়ে মাদকের-প্রবণতা লক্ষ্য করেছি। জেলখানার ৪৭০ জন আসামির মধ্যে ৪০০ জনই মাদক-সংক্রান্ত মামলায় জড়িত। আর এরা অধিকাংশই কিশোর ও যুবক। এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন হতে হবে। আশপাশের লোকজনকে ভালো রাখতে না পারলে নিজেরা ভালো থাকা সম্ভব না।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ ইয়াহ্ ইয়া খানের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আরিফ, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুল হক বিশ্বাস, দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মুনসুর বাবু, মেডিকেল অফিসার ডা. আওলিয়ার রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও প্রতিনিধিরা।