‘ধন্যবাদ; ওসি দামুড়হুদা’

76

বিশেষ প্রতিবেদক:
ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার নাম আদুরী বেগম। নাম আদুরী হলেও অনাদর তাঁর জীবনযাত্রার নিত্যসঙ্গী। মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে মার্কেটে যাওয়ার কথা বলে মেয়ে তাঁর মাকে একা ফেলে চলে যান। তাঁরপর নিঃসঙ্গ হয়ে যান আদুরী বেগম। শহরের রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার কিছুই চেনেন না তিনি। দিকবিদিক ছুটোছুটির একপর্যায়ে তাঁর দেখা পান দৈনিক সময়ের সমকীরণ’র নিজস্ব প্রতিবেদক মেহেরাব্বিন সানভী। সঙ্গে করে নিয়ে আসেন সময়ের সমীকরণ অফিসে। দিনশেষে পশ্চিমে অস্ত যাওয়া সূর্য ডুবে রাত নেমে এল, কিন্তু মেয়ে আর ফিরল না। সারা দিন ছুটোছুটিতে কিছুই খাওয়া হয়নি তাঁর। এ কারণে সানভী ও নিজস্ব প্রতিবেদক রুদ্র রাসেল মিলে তাঁর জন্য ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করে দেন। এতেই যেন তাঁর স্বস্তি। তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে বললেন, ‘কোথাও একটু জায়গা দিলি ঘুমি পড়তাম। সকালে বাড়ি চলে যাবুনি।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তাঁর বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের ভগিরথপুর গ্রামে। স্বামী ইসরাইল হোসেন মারা গেছেন অনেক দিন হলো। মেয়েকে নিয়ে অজপাড়াগাঁয়ের সেই ভিটে-বাড়িতেই তাঁর বসবাস। এখন ফিরতে হবে তাকে, কিন্তু কোন ব্যবস্থায়, তা তাঁর জানা নেই। কোনো কূলকিনারা না পেয়ে সকালে যাওয়ার সিদ্ধান নেন তিনি। এ কথা শুনে সময়ের সমীকরণ’র বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিক ও বিশেষ প্রতিবেদক এসএম শাফায়েত তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তখন রাত সাড়ে ১০টা। সহযোগিতার জন্য সরকারি ফোনে যোগাযোগ করা হলো দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাসের সঙ্গে। বৃদ্ধা আদুরীর ব্যাপারে তাঁকে বিস্তারিত জানানো হয়। ঘটনার বিস্তারিত শুনে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিলেন ওসি। বললেন, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু। যে কোনো সময়, যে কোনো প্রয়োজনে আমরা সবার পাশে আছি।’ যেমন কথা, তেমন কাজ। কিছু সময়ের মধ্যে দামুড়হুদা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিক ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মসলেম গাড়িযোগে বৃদ্ধা আদুরীকে সময়ের সমীকরণ অফিস থেকে নিয়ে গেলেন বাড়ির উদ্দেশে। বৃদ্ধার সঙ্গে থাকা মালপত্র গাড়ির ডেকে তুলে তাকে তুলে নিলেন গাড়ির মধ্যে। তখন ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছুঁই ছুঁই। ঘটনার সূচনাটা অমানবিক হলেও শেষটা ছিল মানবিক। সময়ের সমীকরণ পরিবার মনে করে, এ ঘটনাটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের দলিল-দস্তাবেজে। ধন্যবাদ; ওসি দামুড়হুদা। ধন্যবাদ; চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ।