ধনীকে যে শিক্ষা দিয়ে যায় হজ

123

ধর্ম ডেস্ক: যাদের অঢেল টাকা-পয়সা আছে তাদেরই নিষিদ্ধ মদ-জুয়া, জিনা, ব্যভিচার ও অন্যান্য মন্দ কাজ করার সুযোগ বেশি হয়। তাই ধনী লোকদের ইসলামের প্রতি অবিচল থাকার জন্য নামাজ ও রোজা যথেষ্ট নয়। তাদের নফসের গোলামি থেকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি জাকাত ও হজ ফরজ করেছেন। হজের উদ্দেশ্য হলো, অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসায় দুনিয়ার সবকিছু বিসর্জন দেয়ার প্রেরণা তৈরি করা। হজের সময় সেলাই ছাড়া দু’টুকরা কাপড় পরে অতি দীনহীনভাবে আল্লাহর প্রেমে পাগলপারা হতে হয়। হজ ধনীকে শিক্ষা দিয়ে যায়- ধন বেশি আছে বলেই বিলাসিতা করা যাবে না। হজ পালনের কষ্ট সহ্য করার যোগ্য হতে হবে। যত বড় লোকই হোক না কেন, সেলাইবিহীন দু’টুকরা কাপড় পরে মক্কা, মিনা ও আরাফাতে আল্লাহ প্রেমিকদের সঙ্গে এক হয়ে নিজের বড়ত্ব ভুলে যেতে হবে। আরাফাতের ময়দানে মহান মনিবের সামনে মাথানত করে অপরাধীর মতো দাঁড়াতে হবে। ধন-সম্পদের অহঙ্কার মন থেকে তাড়াতে হবে। পৃথিবীতে রাজা-বাদশাহ, শাসক বা বড় কর্তা যা-ই হোক না কেন এ কথা খেয়াল রাখতে হবে যে, মরার পর এহরামের দু’টুকরা কাপড়ের মতো কাফন পরিয়েই দাফন করা হবে। ধন ও মান-সম্মান কোনোটাই সঙ্গে যাবে না। এভাবে হজ ধনীদের যা শেখায় তারা যদি মনে রাখে, তাহলে তাদের ধন থাকা সত্ত্বেও তারা কালেমার ওয়াদা পালন করে চলতে পারবে। ধন আছে বলেই নফ? সের গোলাম হবে না; আল্লাহর গোলাম হওয়ার যোগ্যই থাকবে। কোনো দালান তৈরি করতে হলে প্রথমে এর ভিত বা বুনিয়াদ গড়তে হয়। ওই বুনিয়াদের ওপর দেয়াল তোলা হয়। দেয়ালের ওপর ছাদ তৈরি করা হয়। ভিত মজবুত না হলে দেয়াল ও ছাদ টেকে না। তাই দালানের জন্য মজবুত ভিতই প্রথমে জরুরি। তেমনি ইসলামের ভিত হলো- কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত। এ ভিতগুলো মজবুত হলে ইসলামের দালানও মজবুত হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলাম পাঁচটি ভিতের ওপর কায়েম রয়েছে- ১. এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, ২. নামাজ কায়েম করা, ৩. জাকাত আদায় করা, ৪. হজ করা, ৫. রমজানের রোজা পালন করা।’ (বুখারি ও মুসলিম)