দোস্তে বিকাশ এজেন্টের মোবাইল চুরি!

44

দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দোস্ত বাজারের আফ্রিদী টেলিকম এ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স নামের দোকান থেকে বিকাশ এজেন্টের দুটি সিমসহ একটি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দোকানি ইব্রাহিম হুছাইনের প্রায় ৫০ হাজার টাকা খোয়া গেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ স্থানীয় মহিলা মেম্বারের ছেলেকে আটক করেছে। চুরি হওয়া মোবাইল সিম থেকে দোকানির টাকা কোন কোন নম্বরে পাঠানো হয়েছে, সে সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করলেও এখন পর্যন্ত টাকার হদিস মেলেনি।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নবগঠিত নেহালপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর-দোস্ত বটতলা বাজারের আফ্রিদী টেলিকম এ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স নামের দোকান থেকে ঈদের আগের দিন দুপুরে একটি বিকাশ এজেন্টের দোকান থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায় চোর। বিকেলের দিকে বিকাশে টাকা লেনদেন করতে গিয়ে দোকনি ইব্রাহিম হুছাইন লাল্টু দেখতে পান বিকাশের ব্যক্তিগত ও এজেন্ট সিম-সংবলিত মোবাইলটি চুরি হয়ে গেছে। যার মধ্যে এজেন্ট সিম কার্ডে ৪৬ হাজার ৪ শ টাকা এবং ব্যক্তিগত সিম কার্ডে ৩ হাজার ২ শ টাকা ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে চুয়াডাঙ্গা বিকাশের প্রধান কার্যালয়কে জানান তিনি। ঈদের ছুটি থাকার কারণে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই চুরি হওয়া সিম কার্ড দুটি থেকে বিভিন্ন নাম্বারে টাকা ট্রান্সফার করে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিকাশ এজেন্ট মালিক লাল্টু চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আসাদ গত সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে দোস্ত বাজার থেকে বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য হালিমা বেগমের ছেলে ইমন হাসানকে আটক করে নিয়ে যান। ইমন আটকের পর শুরু হয় নানা তদবির। পরবর্তীতে যথেষ্ট প্রমাণাদি হাজির করতে না পারায় রাতেই ইমনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার লাল্টু তাঁর সিম কার্ড থেকে ১০ হাজার, ২০ হাজার, ২২ হাজার ও ৪ হাজার ১ শ টাকা কোন কোন নাম্বারে ট্রান্সফার করা হয়েছে, তার তথ্যাদি সংগ্রহ করেছেন।
লাল্টু অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি যার নামে অভিযোগ করেছি, সে আমার খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। প্রায় সময় আমার দোকানে বসত। আমার লেনদেনের অনেক বিষয় তার জানা। ঘটনার পর থেকে সে আর আমার দোকানের আশপাশে আসেনি। তাঁর বিষয়ে সন্দেহ হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল। আমি কোনো কাজ তাঁকে না জানিয়ে করিনি। অথচ আমার এত বড় একটি ঘটনা ঘটে গেল, একবারও খোঁজ পর্যন্ত নেইনি সে। কাগজপত্র আমার হাতে এসে গেছে, আমি বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ওপর মহলে যাব।’
এ বিষয়ে এএসআই আসাদ বরেন, ‘লাল্টুর অভিযোগের ভিত্তিতে ইমনকে ধরে থানায় আনা হয়েছিল। পরবর্তী তাঁরা নিজেরা বসে মীমাংসা করার কথা বললে আমরা তাঁকে ছেড়ে দিই। এরপর তাঁরা এক সঙ্গে থানা থেকে বেরিয়ে যান।’