দেড় শ বছরের ‘তহবাজার হাট’ নিয়ে ষড়যন্ত্র!

70

মাহবুব আলম, গাংনী:
গাংনী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী তহবাজার হাট। হাটটি দেড় শ বছরের পুরোনো। গাংনী উপজেলার কয়েক শ হাটের মধ্যে সব থেকে বড় এ হাট। কিন্তু সম্প্রতি এ হাটের বিরুদ্ধে রীতিমত চক্রান্তে নেমেছে একটি মহল, এ অভিযোগ করছেন হাটের বর্তমান ইজারাদার। ইজারাদারের দাবি, বিগত দিনের হাট পরিচালনার আলোকে হাট পরিচালনা করা হচ্ছে। এর বাইরেও কিছু উন্নয়ন করা হয়েছে এ হাটের, নিয়ম পরিবর্তন করে পাল্টিয়ে দেওয়া হয়েছে হাটের পরিবেশ। আগের মতো গন্ধ নেই, ময়লা-আবর্জনাও নেই হাটের মধ্যে। ছাড় দেওয়া হচ্ছে গরিব-অসহায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের খাজনা। কিন্তু তারপরও একটি মহল নানা চক্রান্ত করছে এ হাটের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, বর্তমানে দেড় শ বছরের পুরোনো এ হাটের জমির মালিকানার দাবি তুলছেন কেউ কেউ, আবার হাটে নির্মিত টিনের শেডের মালিকানাও দাবি করছেন কেউ। কেউ বলছেন, ‘আমার জমির পজিশনের সামনে আবার হাট কেন, এটা তো আমার নিজের জমি।’ এমনই নতুন নতুন অভিযোগ তোলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এরপর করা হচ্ছে অতিরিক্ত খাজনায় আদায়ের অভিযোগ। বলা হচ্ছে, খাজনার কারণে নাকি বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ইজারাদার দাবি করছেন, এসব ষড়যন্ত্রের একটিই উদ্দেশ্য, সেটি হলো গাংনী পৌর শহরের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী এ হাটটি যেন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
হাটের ব্যবসায়ীরা বলেন, এই হাটের মাধ্যমে পৌরসভার বিপুল পরিমাণ আয় হয়, যা দিয়ে পৌরসভার উন্নয়নসহ নানামুখী নাগরিক-সুবিধা প্রদান করা হয়। এ হাট এখান থেকে অনত্র সরানোর জন্য যে পাঁয়তারা চলছে, তা যেন বন্ধ করা হয়। গাংনীর সবজি বিক্রেতা আব্দুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই পরিমাণ খাজনা দিয়ে আসছি, নতুন করে খাজনা বাড়ানো হয়েছে এমন নয়, তুলনামূলক খাজনা কম। শীতের শুরুতে সব ধরনের সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এমনিতেই বৃদ্ধি পায়। এই সবজির দাম বাড়ার সঙ্গে খাজনার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি। কসাইদের নেতা হযরত আলী জানান, ‘কসাইখানার পরিবেশ পাল্টিয়ে দিয়েছেন নতুন ইজারাদার। এখন আর কসাইখানায় রাতের বেলায় কুকুর আসে না, গন্ধও নেই। এর ফলে আগের তুলনায় এখন বেচাবিক্রি বেরেছে আামদের। ইজারাদারের কারণে মাংসের দাম বেশি নেওয়া হয়, এটি ঠিক নয়। এখন মাংস বিক্রি হয় পৌরসভার নির্ধারিত মূল্যে।’
বাজার ইজারাদার হাফিজুর রহমানের বলেন, ‘আমাদের আগে যারা ইজারাদার ছিল, তাদের দেখানো পথে আমরা চলছি। আমরা শুধু হাটে বসার পরিবেশটা ভালো করেছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হাটের খাজনা আদায় করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন সরকারি নিয়ম যেভাবে চালু আছে, এখানেও সেভাবে চালু আছে। এ হাট পৌরসভার সব ধরনের নিয়ম মেনে পরিচালনা করা হচ্ছে। এরপরও কারও কোনো অভিযোগ থাকলে আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।’
এ প্রসঙ্গে গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘নানা ষড়যন্ত্র বিভিন্ন সময়ে হয়ে আসছে। এটাও একটা ষড়যন্ত্র। আমরা সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে পেরেছি, এটাও করব। কারও অভিযোগ থাকলে আমার নিকট করবে, আমি বিষয়গুলো দেখে পদক্ষেপ নেব। গাংনী উপজেলার সব হাট যে নিয়মে চলে, গাংনী পৌর এলাকার হাটগুলোয় তার ব্যতিক্রম নিয়মে চলবে না।’