দেশ আজ অপরাধীচক্রের স্বর্গরাজ্যে

12

দেশে ঘুষ-দুর্নীতি, গুম, খুন, নারী ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, গণপিটুনি ও অপহরণের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা জনগণের জন্যে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত নারী ধর্ষণের মতো মর্যাদা এবং সম্ভ্রমহানিকর কর্মকান্ডের ভয়ে নারী পুরুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ভীষণভাবে। এধরনের রহস্যজনক, অনাকাক্ষিত ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় দেশের জনগণ জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় শঙ্কিত। সামাজিক মূল্যবোধের কোনো মাপকাঠি দিয়ে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির অন্ত পাওয়া যাচ্ছে না।
অপরাধীচক্র তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে অবলীলাক্রমে। অবস্থাদৃষ্টে অনুমিত হচ্ছে, এখন তাদের দাপট স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ফলে এ ধরনের আতঙ্কজনক ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি সমাজে নিরাপত্তাহীনতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিতেই সহায়তা করছে। এতে জনগণ উৎকন্ঠিত। এতে বিপন্ন হচ্ছে নৈতিক মেরুদন্ড। মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছে মন-মননে, নীতি-নৈতিকতায় ও চিন্তা-চেতনায়। এসব অপরাধমূলক ঘটনার খবর গণমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিন প্রকাশিত হলেও বাস্তব অবস্থার তুলনায় তা খুবই সামান্য। তাই বলতে হয়, দেশকি আজ অপহরণকারী, সন্ত্রাসী ও মাস্তানদের অভয়ারণ্যে ও স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হয়েছে।
সমাজে অপরাধী চক্রের অবাধ পদচারণার সুযোগে এবং বিষ ফোঁড়ার মতো ভিসিআর, নগ্ন ও অশ্লীল ছায়া ছবি প্রদর্শন, পর্ন ও রম্য পত্র-পত্রিকা, চলচ্চিত্রের প্রসার, সুন্দরী প্রতিযোগিতায় ও মাদক দ্রব্যের সহজলভ্যতায় মানুষের কুপ্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তোলার ফলে অসামাজিক কার্যকলাপ ও অপরাধ প্রবণতা বেড়ে চলেছে অস্বাভাবিকহারে। এছাড়া অপরাধী ও মাস্তানদের অবাধ পদচারণা ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাই আজ ভেসে আসছে এসব অপরাধের শিকার মজলুমদের আর্তচিৎকার, আঘাত হানছে আকাশের দ্বারে উৎপীড়িতদের আহাজারী এবং সর্বত্র ধ্বনিত হচ্ছে ক্রন্দনরোল। শুরু হচ্ছে সর্বত্র নৈতিক অবক্ষয়। অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ায় অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হচ্ছে। অপরাধ সংস্কৃতির দূষিত জোয়ারে সুস্থ সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ভেসে যাচ্ছে চিরায়ত মূল্যবোধ, ধ্যান-ধারণা, চরিত্র, ধর্ম ও আদর্শ। বিপন্ন হয়ে পড়ছে নৈতিক মেরুদন্ড। মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছে নীতি-নৈতিকতায়। অপরাধ সংস্কৃতির সকল বাহনের অপলুপ্তি প্রয়োজন।
অপরাধের ঘটনায় শক্তিমানদেরই বীভৎস্য চেহারা লুক্কায়িত রয়েছে বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। তাই নিপীড়িত মানুষের নিঃশঙ্ক অকুণ্ঠ প্রতিবাদেরও সম্ভাবনা তিরোহিত। নানাভাবে সৃষ্ট নিবর্তমূলক বেড়াজালে মানুষের পক্ষে সুস্থভাবে নিঃশ্বাস গ্রহণও অসম্ভব হয়ে পড়েছে বললে অত্যুক্তি হবে না। অযাচিত নিয়ম-শৃঙ্খল মানুষের শ্বাসরোধ করে ফেলেছে। শুরু হচ্ছে সর্বত্র নৈতিক অবক্ষয়। অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ছে এবং অপসংস্কৃতির পথ প্রশস্ত হচ্ছে। অপরাধ সংস্কৃতির দূষিত জোয়ারে শুধু সুস্থ সংস্কৃতিই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে না, বরং ভেসে যাচ্ছে চিরায়ত মূল্যবোধ, ধ্যান-ধারণা, চরিত্র, ধর্ম ও আদর্শ। বিপন্ন হয়ে পড়ছে নৈতিক মেরুদন্ড। মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছে নীতি-নৈতিকতায়।