দেশীয় অস্ত্রের মহড়া-ককটেল বিষ্ফোরণ; এলাকাজুড়ে আতঙ্ক!

168

চুয়াডাঙ্গার গড়াইটুপি ইউনিয়ন যুবলীগের নতুন কমিটি নিয়ে দিনভর উত্তেজনা

ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে-ওসি আবু জিহাদ খান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদরের নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়ন যুবলীগের নতুন কমিটি নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দিনভর দু’শতাধিক নেতাকর্মীর দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার একপর্যায়ে ককটেল বিষ্ফোরণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ককটেল বিষ্ফোরণ নয়, পটকা ফুটানো হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন মুহূর্তে বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় রয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ। তবে ওই এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খান।
জানা গেছে, গত বুধবার গড়াইটুপি ইউনিয়ন যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় যুবলীগের কিছু নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে সম্মেলন করতে বাধাঁ প্রদান করে। তখন যুবলীগ-ছাত্রলীগ ও স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাকর্মিরা ত্রিমুখী অবস্থান নিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা করা হলে যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন পন্ড হয়ে যায়। পরে খাড়াগোদা বাজারে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রাশেদুজ্জামান পলাশকে গড়াইটুপি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার।
এ সংবাদ শুনে যুবলীগের অপর একটি গ্রুপে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাহিদ, মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত হারানের ছেলে বামপন্থী গ্রুপের প্রধান শহিদুল, গোষ্টবিহারের তাহাজদ্দির ছেলে লিটনসহ প্রায় দুই শতাধিক লোকজন দা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, হকিস্টিক, ফালাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি পলাশকে মারার জন্য খাড়াগোদা বাজারে মহড়া দেয় বলে নবনির্বাচিত সভাপতি পলাশ ও নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়ন যুবলীগের নেতকর্মিরা অভিযোগ করেন। মহড়ার সময় পলাশকে না পেয়ে, তার ছোট ভাই পোল্ট্রীফিড ব্যবসায়ী শিমুলকে রড দিয়ে মেরে মারাত্মকভাবে জখম করে প্রতিপক্ষরা বলে অভিযোগ উঠে। এসময় তারা শিমুলের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ভেঙ্গে দেয় এবং তার কাছে থাকা ব্যবসার ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে ভুক্তভোগী শিমুল অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে হামলার শিকার শিমুল চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
এদিকে, গতকাল রাত ৮টার দিকে পুনরায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাহিদসহ ৮-১০ জনের একটি বামপন্থী দল খাড়াগোদা বাজারপাড়ার গড়াইটুপি ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি প্রার্থী আরিফ্জ্জুামান পিলুর বাড়িতে ঘেরাও করে তার পরিবারের সবাইকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং পিলুকে বাড়িতে না পেয়ে একটি ককটেলের বিষ্ফোরণ ঘটায় বলে যুবলীগের সহসভাপতি প্রার্থী আরিফ্জ্জুামান পিলুর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন।
খবর পেয়ে তিতুদহ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ এএসআই সবেদ আলীসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তিনি বলেন- বোমা বা ককটেল বিষ্ফোরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে ফাঁকাস্থানে একটি পটকা কে বা কারা মেরে পালিয়েছে। তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিষয়টি উর্দ্ধতন জানানো হয়েছে।
এ ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছান চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন- এখানে বোম বা ককটেল বিষ্ফোরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে কিছু দুর্র্বৃত্ত পটকা ফুটিয়েছে। আমি এই পটকার সকল আলামত সংগ্রহ করেছি। এসময় তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে খাড়াগোদা বাজারে আর কোন রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনা করা যাবেনা বলে জানান। আর যারা এই কর্মকান্ডের সাথে জড়িত তাদেরকে অবশ্যই দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলেও আশ্বাস দেন।