দেশব্যাপী ডেঙ্গুর বিস্তার

32

চিকিৎসার সুযোগ ও সচেতনতা বাড়াতে হবে
শুরুতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঢাকায় দেখা গেলেও এখন তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এরই মধ্যে ৫০ জেলায় ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে। ডেঙ্গুর এমন প্রাদুর্ভাব থাকবে অক্টোবর পর্যন্ত, তারপর ধীরে ধীরে কমে আসবে। তত দিনে হয়তো কোনো জেলাই ডেঙ্গু থেকে মুক্ত থাকবে না। এরই মধ্যে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। রক্তের প্লাটিলেট প্রাপ্তির সমস্যা তৈরি হয়েছে। শনাক্তকারী পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সর্বত্র এক রকম নয়। তাই ডেঙ্গু মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক বিস্তার, দোষারোপ করা, একে অন্যের ব্যর্থতা খোঁজা বর্তমান পরিস্থিতির কোনো উন্নতি করবে না, বরং তাতে ক্ষতি বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকবে। ডেঙ্গু শুধু বাংলাদেশে নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বছরের এই সময়টায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হয়, এ বছর তা একটু বেশিই লক্ষ করা যাচ্ছে। ফিলিপাইনে ‘জাতীয় ডেঙ্গু সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত সেখানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ৪০০ মানুষের। সিঙ্গাপুর অনেক উন্নত দেশ। চিকিৎসা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নত। তারাও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ২০ জুলাই পর্যন্ত সেখানে আট হাজার ২০ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৯ জন। দেশটির জনসংখ্যা মাত্রা ৫৬ লাখ। সেই হিসাবে বাংলাদেশের তুলনায় সেখানে আক্রান্তের হার ও মৃতের সংখ্যা দুটিই বেশি। ভারতে ২৯ জুন পর্যন্ত ৬২ হাজার ৪২১ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৯৩ জন। অন্যান্য দেশের চিত্রও কমবেশি একই রকম। কাজেই আমাদের দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। জলবায়ু পরিবর্তনও ডেঙ্গুর বিস্তারে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা রাখছে। সেই সঙ্গে আছে বড় বেশি রকমের নাগরিক অসচেতনতা। দুর্বল মশা নিধন ব্যবস্থাপনা বা স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এসব তো আছেই। বড় শহরে দুই বাড়ির মাঝখানে নানা ধরনের কৌটা, টায়ার, ডাবের খোসা, পলিব্যাগ ইত্যাদি পড়ে থাকে। ভবনের সানশেডেও এসব জমে থাকতে দেখা যায়। সেগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে এবং এডিস মশা তাতে বংশবিস্তার করে। ঘরের মধ্যে বিভিন্ন পাত্রে, ফ্রিজের পেছনে, ফুলের টবে বা ফুলদানিতে অনেকে পানি জমিয়ে রাখেন এবং নিয়মিত পরিষ্কার করেন না। এত বলার পরও অনেকেই মশারি ব্যবহার করেন না। এমনি হাজারটা অসচেতনতা ডেঙ্গুর বিস্তারে ভূমিকা রাখে। এসব অসচেতনতা দূর করতে হবে। ডেঙ্গু সারা দেশেই ছড়াবে। কারণ মানুষ ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকা থেকে ডেঙ্গুমুক্ত এলাকায় যাবে। সঙ্গে ডেঙ্গুর ভাইরাসও যাবে। আর এডিস মশা এই বর্ষায় সর্বত্রই থাকবে। ডেঙ্গুতে রক্তের প্লাটিলেট কমে যায় বলে রোগীকে প্লাটিলেট দিতে হয়। ডেঙ্গু শনাক্ত করার পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সর্বত্র নেই। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে সারা দেশে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় জরুরি দিকনির্দেশনা তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আতঙ্ক না ছড়িয়ে মানুষকে সচেতন করার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি নিতে হবে।