দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ুক উন্নত চিকিৎসা সেবা

21

গত কয়েকদশকে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত হলেও জেলা পর্যায়ে অগ্রগতি উল্লেখ করার মতো না। প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাঝারি পর্যায়ের চিকিৎসা সেবা জেলা পর্যায়ে মিললেও একটু জটিল-গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় রাজধানীসহ বিভাগীয় পর্যায়ে ছুটতে হয় সাধারণ মানুষকে, আর অবস্থাবানরা চলে যান দেশের বাইরে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিতদেরকেও ছোটবড় চিকিৎসা প্রয়োজনে দেশের বাইরে যেতে দেখা যায়। অনেকসময় তারা রাজধানীর চিকিৎসা ব্যবস্থায় ভরসা পান না। এ অবস্থা থেকে জেলাসহ প্রান্তিক চিকিৎসা সুবিধা পরিস্থিতি আন্দাজ করতে কারো অসুবিধার কথা না। প্রান্তিক পর্যায়ে বেসরকারি উদ্যোগে কিছু উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও অনেক সরকারি হাসপাতালগুলোতে তা অধরা। উন্নত যন্ত্রপাতি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ নানা অপ্রতুল পরিস্থিতির কারণে এ অবস্থা বিরাজ করছে বলে আমাদের ধারণা। অনেকসময় কোনো কোনো হাসপাতালে উন্নত যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক নেই, আবার চিকিৎসক থাকলেও উন্নত যন্ত্রপাতি থাকে না। এই যখন পরিস্থিতি, তখন হাইকোর্ট জেলা পর্যায়ের চিকিৎসা সেবার উপরে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। দেশের সকল জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ বেডের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) স্থাপন প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর আগে হাইকোর্টে এক রিটের জবাবে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশের ৪৭টি জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ বেডের আইসিইউ-সিসিইউ স্থাপনের কাজ চলছে। আর ১৭টি হাসপাতালে আইসিইউ-সিসিইউ স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। আর যেসব জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ-সিসিইউ’র কার্যক্রম চালু আছে সে তালিকাও দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানতে চেয়ে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে চলা ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে জেলা পর্যায়ে আইসিইউ-সিসিইউ বেড সুবিধার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হিসাবে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেসরকারি হিসাবে মৃত্যু হয়েছে ১২৪ জনের। আর ২৮ আগষ্ট পর্যন্ত মোট ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৬৭ হাজার ২২১ জন, যাদের অনেকেরই উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছে। ডেঙ্গু বাদ দিলেও সারাবছর ধরে চলা অন্যান্য জটিল রোগের চিকিৎসা প্রয়োজনতো আছেই। জেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা মিললে চিকিৎসাকালীন সময়ে মৃত্যুর ঘটনা যেমন কমবে, তেমনি দেশের চিকিৎসা সেবার উপরে জনগণের বিশ্বাসও বাড়বে। এসব পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের নির্দেশনা খুবই ইতিবাচক বলে আমরা মনে করি। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা-ের ভেতরে গ্রামপর্যায়ে উন্নয়নের বিভিন্ন ইশতেহার রয়েছে, সেসবের মধ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে বিভিন্ন কারণে নানাসময়ে উন্নয়ন অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে, যা দূর করা বিশেষ প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। এছাড়া জেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পদায়নসহ উন্নত চিকিৎসা যন্ত্রপাতির পর্যাপ্ত সুবিধা রাখাও একান্ত প্রয়োজন। আমাদের আশাবাদ, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে যথাযথ কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।