দুর্যোগে কোরবানি নিয়ে ইসলাম যা বলে

20

ধর্ম প্রতিবেদন:
আল্লাহ পাক পবিত্র কোরান ঘোষণা করেন যে, আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন, সুরায়ে কাওসার, আয়াত দুই। নামাজ হলো শারীরিক ইবাদত এবং কোরবানি আর্থিক ইবাদতসমূহের মধ্যে বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী। কোরবানি না দিয়ে, তার টাকা গরিবদের দান করলে হবে না। দশ জিলহজ থেকে বারো জিলহজ পর্যন্ত সকল সামর্থ্যবান, ধনীদের জন্য কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব বা সুন্নত। এ বিষয়ে কোরবানি না দিয়ে সে অর্থ গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ ইসলামি শরিয়তে নেই।
তবে হ্যাঁ, যে সকল ধনী লোকেরা বিগত বছরগুলোতে একটা গরুর বদলে দশটা গরু কোরবানি দিয়েছেন, তারা এবারের করোনা ভাইরাস মহামারীকালীন বেশি গরু বা ছাগল কোরবানি না দিয়ে, সেই টাকাটা গরিব অসহায়দের মাঝে দান করতে পারেন। তবে সামর্থ্যবানদের কোরবানি দিতে হবে। করোনা ভাইরাসকালীন অর্থনীতির অবস্থাও ভালো নেই, আল্লাহকে রাজি এবং খুশি করার জন্য কোরবানি দিতে হবে। রাসুল সা.কে জনৈক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসুল সা. কোরবানি জিনিসটা কী? রাসুল সা. উত্তর দিলেন, কোরবানি হলো তোমাদের মুসলিম জাতির আদি পিতা হজরত ইব্রাহিম আ.এর অতি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। যাদের সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সমপরিমাণ নিছাবের সম্পদ আছে, তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব বিধায় কোরবানির টাকা করোনা ভাইরাসকালীন গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ ইসলামি শরিয়তে নেই।
হ্যাঁ, বিগত বছরে বেশি গরু কোরবানি দিয়েছেন, এবারে কম দিয়ে, সে টাকাটা গরিব অসহায়দের জন্য বিলিয়ে দিতে পারেন। তবে সামর্থ্যবানদের অবশ্যই কোরবানি দিতে হবে। আসন্ন ঈদুল আজহাতে আল্লাহর নৈকট্যলাভের আশায় পশু কোরবানির সাথে আমাদের মনকেও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় মনের কোরবানি দিতে হবে। আল্লাহ মানুষের মন দেখেন। আল্লাহ মানুষের নিয়ত দেখেন। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে মহামারী থেকে হিফাজত করুন এবং সামর্থ্যবানদের কোরবানি দেওয়ার তাওফিক দান করুন, আমীন।