দুর্ঘটনার এক বছর : এখনও থামেনি ১৩টি পরিবারের কান্না

309

দামুড়হুদার জয়রামপুরে বড়বলদিয়ার ১৩ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক সড়ক নিহতের
নিহত শ্রমিকদের রুহের মাগফেরাত কামনায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
অঙ্কন মল্লিক/আওয়াল হোসেন: সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ শ্রমিক নিহতের এক বছর। গত বছরের ২৬শে মার্চ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা-দর্শনা সড়কের জয়রামপুরে স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এত প্রাণ হারায় ১৩ শ্রমিক। আহত হন আরও ১২ জন। দুর্ঘটনায় ১৩টি পরিবার হারিয়েছে তাদের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। তার পর থেকে সংসারের হাল ধরেছেন পরিবারের নারীরা।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ জনের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বাদ আসর দামুড়হুদার বড়বলদিয়া ঈদগাহ মাঠে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম সভাপতিত্বে দোয়া ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের ধৈর্য্যশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষ জন্মগ্রহন করলে মৃত্যু একদিন হবেই। তবে এ ১৩টি পরিবারের উর্পজনকারী ব্যক্তির সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে। একসাথে এতো জনের মৃত্যু আমাদের ব্যতিথ করেছে। নিহত ও আহত পরিবারের সবাই ভাল থাক এ কামনা করছি।
স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএএম জাকারিয়া আলম, পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বরকত আলী। স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন, কার্পাসডাঙ্গা কলেজের ইংরেজী প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন, বড়বলদিয়া গ্রামের আজিজুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা সরোয়ার হোসেন, বড়বলদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক এরশাদ আলী, ইউপি সদস্য হজরত আলী, আজিজুর রহমান বেল্টু। দোয়া মহাফিলের আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন আজিজুল হক, নাসীর উদ্দিন, মিন্টু মিয়া, সুলতান আলী, আনিছুুর রহমান। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মো. মুফতি আক্তারুজ্জামান। সকল অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুবলীগ নেতা পিয়ার আলী।
নিহতরা হলেন, গোলাম রাহমানের ছেলে ইজ্জত আলী, লিয়াকত আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম, লিয়াকত আলীর ছেলে শাহিন মিয়া, গাজিউর রহমানের ছেলে শান্ত, বাবলু মিয়ার ছেলে হাফিজুল ইসলাম, ভোলাই মন্ডলের ছেলে বিল্লাল হোসেন, ঘেতা খাঁর ছেলে নজির আলী, খোদা বক্্েরর ছেলে উজ্জল হোসেন, ইন্নালের ছেলে আবুবক্কর, ঠান্ডু মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেন, ফকিরচাঁদ এর ছেলে লালচাঁদ, রহিম মিয়ার ছেলে আব্বাস আলী, আব্বাস আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গতবছরের ২৬শে মার্চ বড় বলদিয়া গ্রামের ২৫ শ্রমিক সড়ক নির্মাণকাজের জন্য আলমসাধুযোগে আলমডাঙ্গার খুদিয়াখালী গ্রামে যাচ্ছিলেন। দর্শনা-দামুড়হুদা সড়কের জয়রামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় বটতলার কাছে পৌছালে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় ১৩জন শ্রমিক।