দুধ নিয়ে গবেষণায় ভয়ঙ্কর বার্তা

56

খাদ্যে ভেজাল ও ফলমূলে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের ভয়াবহতার বিষয়টি এখন উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। ৫২টি ভেজাল বা নি¤œমানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে অবশ্য কয়েকটি কোম্পানির পণ্য পরবর্তী পরীক্ষায় ‘মান উত্তীর্ণ হয়েছিল’। এর পরিপ্রেক্ষিতে বলতে গেলে প্রায় থমকে গেছে ভেজাল বিরোধী সেই নির্দেশনা। এবার আরও ভয়ঙ্কর তথ্য দিয়েছেন দুধ নিয়ে গবেষণা করে আলোড়ন সৃষ্টি করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক। তিনি দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা করে আরো উদ্বেগজনক তথ্য পেয়েছেন। ১৩ জুলাই অধ্যাপক ফারুক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপিতে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায় দুধের নতুন ১০টি নমুনার ১০ টিতেই অ্যান্টিবায়োটিক মিলেছে। ১০টি নমুনার মধ্যে ৩টিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ৪টি, ৬টিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ৩টি এবং ১টিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ২টি। এসব অ্যান্টিবায়োটিকগুলো হলো- অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, এনরোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং লেভোফ্লক্স্রাসিন। এমন তথ্য মানবদেহের জন্য খুবই শঙ্কার বলে আমরা মনে করি। দুঃখজনক হলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলোর যথাযথ পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। কিন্তু দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতির বিষয়টি কোনোভাবেই হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। আমরা মনে করি, বাজারে থাকা এসব দুধ নিয়মিতভাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে সেই অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট দুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে নিজেদের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা দূর করে পণ্যের গুণগত মান উন্নত করতে বাধ্য করতে হবে। নয়তো দেশের দুধের মানের উন্নতি ঘটবে না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এমন পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। তবে এই পরীক্ষা নিয়ে ইতিপূর্বে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াসি উদ্দিন অধ্যাপক ফারুকের গবেষণা যথাযথ হয়নি দাবি করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায় এমন উদ্বেগজনক তথ্য এসেছে। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রী নিজে যখন ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, সেখানে জনস্বাস্থের জন্য উদ্বেগজনক এমন তথ্যকে অস্বীকার কোনো উপায় নেই। বরং এ বিষয়ে প্রয়োজনে আরও উচ্চতর গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা হতে পারে। কোনোভাবেই এ বিষয়ে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগজনক এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।