দুজন নিহত, প্রাইভেট কারচালক আটক

136

চুয়াডাঙ্গা সদরের নয়মাইল বাজার ও দর্শনায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনা
সমীকরণ প্রতিবেদন:
চুয়াডাঙ্গা সদরের নয়মাইল ও দর্শনায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকু-ু উপজেলার কাপাসহাটিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান পলাশ (৩৪) ও দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী গ্রামের আজিজুল মল্লিকের ছেলে জুলফিকার আলী (৪২)।
সরোজগঞ্জ:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নয়মাইল বাজারে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মেহেদী হাসান পলাশ (৩৪) নামের এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরতর জখম হয়েছেন মোটরসাইকেলের আরোহী শাহানাজ খাতুন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় জনতা প্রাইভেট কারটি আটক করে সরোজগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাইভেট কারটি ও প্রাইভেট কারের চালক শফিকুলকে আটক করে। এদিকে, নিহত পলাশের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় গতকাল দুপুরেই ময়নাতদন্ত ছাড়ায় পলাশের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিকেলে নিহত ব্যক্তির পিতা চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা করেন। নিহত মেহেদী হাসান পলাশ ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকু-ু উপজেলার কাপাসাটিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। আহত শাহানাজ খাতুন পলাশের খালা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে মেহেদী হাসান পলাশ ও তাঁর খালা শাহানাজ খাতুন চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে খালুর বাসা থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় নয়মাইল নামক স্থানে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ-২৭-৭৪৮৪) তাঁদের ধাক্কা দেয়। এতে পলাশ ও তাঁর খালা ছিটকে রাস্তার ওপর পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই নিহত হন মোটরসাইকেলের চালক পলাশ। গুরুতর আহত হন তাঁর খালা শাহানাজ। এ সময় স্থানীয় লোকজন আহত শাহানাজকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন।
এ ঘটনার পর প্রাইভেট কারটি আটক করে সরোজগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দেন স্থানীয় লোকজন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাইভেট কার ও চালক শফিকুল ইসলামকে আটক করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় পাঠায়। বিকেলে নিহত পলাশের পিতা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আটক হওয়া প্রাইভেট কারের চালক শফিকুল ইসলাম (৩৫) ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে।
গুরুতর আহত শাহানাজ খাতুন জানান, ‘আমরা আস্তে আস্তে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে প্রাইভেট কারটি আমাদের ধাক্কা দেয়। এরপর আমি আর কিছুই জানি না।’
এদিকে, ছেলেকে হারিয়ে পলাশের মা-বাবা পাগলপ্রায়। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় গতকাল দুপুরে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় মেহেদী হাসানের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল মাগরিবের নামাজের পর জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তাঁর দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খান বলেন, চুয়াডাঙ্গার নয়মাইল নামক স্থানে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মেহেদী হাসান পলাশ নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রাইভেট কার ও চালক শফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
দর্শনা:
দর্শনা-জীবননগর সড়কের দর্শনা ফিলিং স্টেশনের সামনে টাইলস-ভর্তি একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলচালকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোটরসাইকেলচালক জুলফিকার আলী (৪২) দামুড়হুদা উপজেলার বিশিষ্ট ঠিকাদার ও নতুন হাউলী গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে। পরে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে জীবননগর-দর্শনা সড়কের চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকন্দবাড়িয়া গ্রামের ফার্মপাড়া-সংলগ্ন মহাসড়ক হয়ে একটি টাইলস-ভর্তি ট্রাক (ময়মনসিংহ ড ১১-০০৯৮) দর্শনার অভিমুখে আসছিল। এ সময় দর্শনা ফিলিং স্টেশনের সামনে ট্রাকটি পৌঁছালে এটি বিপরীত দিকে জীবননগর অভিমুখে যাওয়া একটি লাল রঙের ১৫০ সিসির পালসার মোটরসাইকেলকে (চুয়াডাঙ্গা ল ১১-১২৬৭) ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলচালক জুলফিকার আলী রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে ট্রাকের পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় চালক ট্রাক ফেলে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত জুলফিকারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং নিহত ব্যক্তির মোটরসাইকেল পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ দুর্ঘটনা পৌর টোল আদায়কারীদের জন্য ঘটেছে। কারণ জীবননগর-দর্শনা মহাসড়ক হয়ে যখন প্রায় ৭০ কিলোমিটার গতিতে দর্শনা অভিমুখে টাইলস-ভর্তি ট্রাকটি আসছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে পৌর টোল আদায়ের জন্য আদায়কারীরা সড়কের দুই পাশ দিয়ে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে ট্রাকটির গতিরোধের চেষ্টা করলে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। যার জন্য ঘটে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। এ সময় অবস্থা বেগতিক দেখে পৌর টোল আদায়কারীরা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস বলেন, ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। কিন্তু ট্রাকটির চালক পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।