দুজন এতিম পেলেন চাকরি, প্রশংসিত হলেন এসপি

135

মেহেরপুর অফিস:
মাত্র ১০০ টাকায় পুলিশের চাকরি পেলেন মুজিবনগর সরকারি শিশু পরিবারের দুজন শিক্ষার্থী। গত বৃহস্পতিবার রাতে মেহেরপুর পুলিশ লাইনস রিজার্ভ অফিসে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম (বার) চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী নয়জন পুরুষ ও নয়জন নারীর চূড়ান্ত নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুজিবনগর সরকারি শিশু পরিবারের দুজন শিক্ষার্থী। তাঁরা দুজন হলেন মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভিপুর গ্রামের মৃত বাহার আলীর মেয়ে লতা খাতুন ও মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের নূরনবী শেখের মেয়ে প্রিয়া খাতুন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এই প্রথম কেউ চারকরি পেলেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র দুজনই চাকরির জন্য আবেদন করেছিল, আর দুজনের মধ্যে কাউকেই ফিরতে হয়নি খালি হাতে। এদিকে চাকরির খবর শুনে আনন্দে মেতে ওঠে শিশু পরিবারের সবাই।
চাকরি পেয়ে নিজের অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে লতা খাতুন বলেন, ‘আমার ছোট থেকে স্বপ্ন ছিল পুলিশ হব, দেশ ও জনগণের সেবা করব। অবশেষে প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় আমার মনের আশা পূর্ণ হলো।’
প্রিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার প্রধান শিক্ষকসহ সবার সহযোগিতায় আজ আমি পুলিশের চাকরি পেয়েছি। আমি ভাবতাম, আমরা এতিম, আমাদের পাশে কেউ নেই। তবে আজ আমাদের চাকরির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করে দিলেন তিনি এতিমদের মা, সব সময় এতিমদের পাশে আছেন। আর আমিও প্রতিজ্ঞা করছি, দেশ ও জনগণের সেবা করব।’
শিশু পরিবারের প্রধান শিক্ষক তন্ময় কুমার শাহ্ বলেন, ‘যখন পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখি, তখন সবাইকে বলি, কে কে পুলিশের চাকরি করবে। তখন তারা দুজন আমাকে বলে আমরা করব, আমাদের কাগজগুলো জমা দেন। তখন আমি দরখাস্ত থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে নিয়ে সব জায়গায় গিয়েছি। অবশেষে আমার এ পরিশ্রম সফল হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে একদম বিনা টাকায় চাকরি হয়েছে। আর এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী, পুলিশ সুপারসহ শিশু পরিবারের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’