দুই দলের রাজনীতি

129

অরাজনৈতিক ইস্যুতে হিমশিম সরকার
সমীকরণ প্রতিবেদন:
নির্বাচনের পর প্রায় সাত মাস পার করল আওয়ামী লীগ সরকার। এ সময়টায় তাকে রাজনৈতিক কোনো ইস্যু মোকাবিলা করতে হয়নি। সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিলেও মাঠে নামতে পারেনি বিএনপি। কিন্তু এ মাসে অরাজনৈতিক ইস্যুর সামনে পড়ে সরকার যেন বেশ অপ্রতিভ। এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ তীব্র হয়ে উঠেছে। সমস্যাটি নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নানা ধরনের কথাবার্তা বলছেন। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে সরকারকে। পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে গুজব রটিয়ে ‘ছেলেধরা’ বলে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। গ্রাম থেকে এই গুজব শহরের সর্বত্র। এর আগেও ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা ও বরগুনায় রিফাত হত্যায় সরকারদলীয় ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় সমালোচিত হয়েছে সর্বত্র। সব মিলে অরাজনৈতিক ইস্যু সরকারকে অস্বস্তিতে টেনে নিয়েছে।
সরকার ও দলের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সরকারের সাত মাসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ধকল পোহাতে না হলেও সামাজিক অপরাধ ও গুজব নিয়ে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগকে। বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে ছেলেধরা গুজব। পদ্মা সেতুতে মাথা লাগবে এমন গুজব ছড়িয়ে সরকারকে অস্থিতিশীল করতে কৌশলে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। ছেলেধরা আতঙ্কে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গণপিটুনিতে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। এ নিয়ে সারা দেশে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ছেলেধরা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করলেও বিষয়টি গুজব বলেই জানাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এজন্য পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে বেশ কিছু এলাকায় জনসাধারণকে সচেতন করতে মাইংকিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গুজ্বর ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৮ জন মারা যাওয়ার খবর সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। বেসরকারিভাবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে জানা গেছে। অনেকেই ধারণা করছে সিটি করপোরেশনের মশা নিধনের ওষুধ কার্যকর হয়নি বলেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ঢাকার দুই মেয়র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘আজব মন্তব্য’র কারণে নাগরিক মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দায়িত্বপূর্ণ পদে আসীনদের দায়িত্বহীন কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, আমাদের সবার কথা বলায় সংযত হওয়া উচিত। আমরা অনেক সময়ই এমন দায়িত্বহীন কথাবার্তা বলে থাকি। তারা দুজনেই যেটা বলেছেন, সেটা তাদের নিজেদের মতামত হতে পারে। ডেঙ্গুকে সহজভাবে নেওয়ার উপায় নেই। যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। তাই কথা না বলে যার যার কাজে মনোনিবেশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করছি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেন আওয়ামী লীগ। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের সুফলও ঘরে তুলে দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি। গত সাত মাসে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে হয়নি। মাঠের বিরোধী দল বিএনপি সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন দাবি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিলেও মাঠেই নামতে পারেনি। ফলে রাজপথে বিরোধীপক্ষকে মোকাবিলা করতে হয়নি।
সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক কৌশলে পরাস্ত আওয়ামীবিরোধী রাজনীতি অপশক্তি মাঠে গুজব ছড়িয়েছে। ওসব অপশক্তির টার্গেট যে কোনো মূল্যে আওয়ামী লীগকে দেশের মানুষের কাছে বিতর্কিত করা। তাই তারা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করার উদ্দেশ্যে ‘পদ্মা সেতুতে মাথা লাগবে’ – ‘তিনদিন বিদ্যুৎ থাকবে না’ ইত্যাদি গুজব ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট। রাজনৈতিক ইস্যুতে যারা মাঠে নামতে ব্যর্থ হয়েছে, সেই কাপুরুষরাই পরিকল্পিতভাবে এই নোরামি করে চলেছে। ফলতঃ অরাজনৈতিক ইস্যু মোকাবিলায় ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে সরকারকে। শুধু ছেলেধরা, পিটিয়ে মানুষ হত্যা কিংবা আগুনই নয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১০ বছরের মধ্যে এই প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন এবং কক্ষে তালা লাগানোর ঘটনাও ঘটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকার সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এটাকে নতুন ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে ছাত্রলীগ।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নতুন নির্বাচন ও তাদের নেত্রীর মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েও মাঠে নামেনি। তারা সব সময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা এখন সরকারকে অস্থিতিশীল করতে অপপ্রচারকে বেছে নিয়েছে। পদ্মা সেতুতে মাথা লাগবে বলে ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করছে। এরপর তারা বলছে বিদ্যুৎ থাকবে না। সবই সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টা। আমরা সজাগ আছি, দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই।’ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যারা দেশের উন্নয়ন চায় না, তারাই পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সামনে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারলেও সামাজিক অপরাধ ও অরাজনৈতিক উসকানি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রাজনৈতিক ইস্যু তো নেই। আমরা এখন নন ইস্যুতেই সময় পার করছি।

তৃণমূল চাঙ্গা করার মিশনে বিএনপি
সমীকরণ প্রতিবেদন:
বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বার্তা নিয়ে তৃণমূল চাঙ্গা করার মিশনে নেমেছে বিএনপি। দলটির টার্গেট, আগামী তিন মাসের মধ্যে তৃণমূল গুছিয়ে নভেম্বরের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করা। এর মধ্যে বেগম জিয়ার মুক্তি না হলে আন্দোলনের মাধ্যমেই বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে শক্ত কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে থাকতে চায় দলটি। এ জন্যই দলকে একটি শক্ত ভিতের মধ্যে দাঁড় করানোর চেষ্টায় বিএনপি। এরই মধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ শুরু হয়েছে। তিন বিভাগীয় সমাবেশ শেষ হয়েছে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে আর বিভাগীয় পর্যায়ে আপাতত সমাবেশ হচ্ছে না। সেপ্টেম্বরে বাকি সমাবেশগুলো সম্পন্ন হবে। বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে যেতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এরই মধ্যে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিএনপির তৃণমূল নেতারা বলছেন, জোট বা ফ্রন্ট ছাড়াই দলের একক কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা এই তিন বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে তৃণমূল বিএনপিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যেও হতাশা কাটিয়ে এক ধরনের আস্থা ফিরে এসেছে। ভোটের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা ২০ দলের সমাবেশে বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি কম ছিল। কিন্তু তিন বিভাগীয় সমাবেশে মাঠপর্যায়ে সর্বস্তরের জনতার ঢল নেমেছে। এ ছাড়া মাঠের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রকে একটি বার্তা দিয়েছেন, বিএনপির একলা চলা নীতিই ভালো।
বিভাগীয় সমাবেশ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘তিনটি বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপি নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। এতে বোঝা যায়, তৃণমূল বিএনপি এখনো চাঙ্গা। সাধারণ মানুষও বিএনপির পাশে আছে। তাই নানা প্রতিকূল পরিবেশেও বেগম জিয়ার মুক্তি দাবিতে সর্বস্তরের মানুষ সমাবেশে উপস্থিত হয়। সরকারকে একটি বার্তা দিতে চায় বিএনপি, অন্যায়ভাবে আটক করা বেগম জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।’ অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির চেয়েও জরুরি হয়ে গেছে এই সরকারের পতন। তাদের পতন হলে বেগম জিয়ার মুক্তি হবে, গণতন্ত্রের মুক্তি হবে, মানুষের জীবন নিরাপদ হবে।’
জানা যায়, বেগম জিয়ার অনুপস্থিতিতে দল গোছানোর উদ্যোগ নিয়েছেন লন্ডনে অবস্থান নেওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দলের স্থায়ী কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ নিয়ে অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠনের কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশের ৮১টি সাংগঠনিক জেলায় বিএনপির অসম্পূর্ণ কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওইসব জেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে অঙ্গ সংগঠনের কমিটিও পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এরই মধ্যে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল, ওলামা দল ও মহিলা দলের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিও শিগগিরই দেওয়া হবে। এ ছাড়া ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গঠিত হয়েছে বিএনপির বিদেশবিষয়ক কমিটি (ফরেন অ্যাফেয়ার্স)। জাতীয়তাবাদী প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠনের কাজ শেষ করতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড।
এদিকে বন্যার কারণে ঈদের আগে বিভাগীয় সমাবেশ আর করছে না বিএনপি। উত্তরাঞ্চলে বন্যার কারণে এরই মধ্যে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় মহাসমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে বসে থাকবে না বিএনপি। একদিকে তৃণমূল পুনর্গঠনের কাজ করবে, অন্যদিকে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে জনগণের কাছে ফিরে যেতে চায় বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করতে যাচ্ছেন দলের সিনিয়র নেতারা।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ হাইপ্রোফাইলের কেন্দ্রীয় নেতারা ত্রাণ বিতরণ কাজে অংশ নেবেন। আজ কেন্দ্র গঠিত ত্রাণ কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে গাইবান্ধা যাবেন মির্জা ফখরুল। সেখানে ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি জনগণের উদ্দেশে কথাও বলবেন বিএনপি মহাসচিব। আগামীকাল ২৮ জুলাই সিরাজগঞ্জে যাচ্ছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। একই দিনে জামালপুর ও শেরপুরসহ ময়মনসিংহ বিভাগে ত্রাণ বিতরণ করবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম। দলটির ত্রাণবিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সার্বিক বিষয় দেখভাল করছেন। এরই মধ্যে পাঁচ বিভাগীয় পাঁচটি ত্রাণ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, ‘বিএনপির সামনে দুটি লক্ষ্য। একটি হলো দল গুছিয়ে বেগম জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করা। আরেকটি হলো নতুন নির্বাচনের দাবি আদায় করা।’