দুই ইস্যুতে টানা মাঠে থাকতে চায় বিএনপি

14

সমীকরণ প্রতিবেদন:
দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূতি ঘিরে চলতি মাসে সিরিজ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে পারে বিএনপি। দলটি এই মূহুর্তে বেগম জিয়ার জামিনে মুক্তির বিষয়টি এক নম্বর এজেন্ডা হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। ৫ ডিসেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার জামিন প্রশ্নে আপিল বিভাগের রায়ের দিন ধার্য রয়েছে। এদিন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের প্রতিবেদনও সংশ্লিষ্ট র্কর্তপক্ষকে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দলটির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা যেমনি আদালত থেকে সুসংবাদ শোনার অপেক্ষায় আছেন, তেমনি নেতিবাচক কোন সিদ্ধান্ত আসলে এর প্রতিবাদে কেন্দ্র থেকে কর্মসূচিও প্রত্যাশা করছেন। গতবছরের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য আইনী লড়াই চালিয়ে আসছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, আইনী প্রক্রিয়ায় হলে বেগম জিয়া অনেক আগেই জামিনে মুক্তি পেতেন। কিন্তু তাকে কেবলমাত্র রাজনৈতিক কারণেই কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তার মুক্তি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবা খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির দিনে আদালতের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক উপস্থিতির পরিকল্পনা করেছে দলটির নীতি-নির্ধারকরা। দল সমর্থিত সব আইনজীবীকেও ওইদিন হাইকোর্টে যেতে বলা হয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি বাইরে থেকেও বিএনপির আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত হতে পারেন। দলের যেসব আইনজীবী নেতা নিয়মিত প্রাকটিস করেন না, তারাও আইনজীবীর পোশাক পরে আদালতে যাবেন। আদালতের বাইরেও বিএনপি নেতা-কর্মীদের বড় ধরণের শোডাউন করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নেতা-কর্মীদের সেদিন আদালত প্রাঙ্গণে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সমাগম করার প্রস্তুতি নেয়া হলেও কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত এলে এর প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। জানা গেছে, বেগম জিয়ার মুক্তি ইস্যূটি বিএনপি কূটনৈতিক পর্যায়েও জোর দিয়ে তুলে ধরেছে। দলটি এক্ষেত্রে প্রভাবশালী দেশগুলোর একটি কার্যকর ভূমিকাও আশা করছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ রাখেন বিএনপির এমন এক নেতা জানিয়েছেন, শর্তযুক্ত হলেও সুচিকিৎসার জন্য বেগম জিয়ার মুক্তি চান তারা। এই মনোভাব তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়েও জানিয়েছেন। গত ১ এপ্রিল থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। সুচিকিৎসার অভাবে তার জীবন সংকটাপন্ন বলে বিভিন্ন সময়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। এদিকে কারাবন্দির ২১ মাস পেরিয়ে গেলেও তার মুক্তির দাবিতে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি না দেয়ায় দলটির তৃণমূল নেতারা ক্ষুব্দ অবস্থানে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাও দলের নেত্রীর মুক্তি প্রশ্নে কঠোর আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই বলে বক্তব্য রেখে চলছেন।
এমন পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হাইকোর্টের সামনের রাস্তায় সহস্রাধিক নেতা-কর্মী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। ওই কর্মসূচিতে দলটির কয়েকজন সিনিয়র নেতাও অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের সাথে কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দলের মহাসচিবসহ শীর্ষ অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হলেও বিএনপির হাইকমান্ড মনে করছে, কর্মসুচি থেকে আর পিছপা হওয়া যাবে না। নতুন করে লড়াই সংগ্রামের জন্য রাজপথকেই তাদের বেছে নিতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত সপ্তাহে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে তারা আগামীতে সভা সমাবেশ করবেন। কিন্তু এজন্য কোন অনুমতির অপেক্ষা করবেন না। তিনি বলেন, বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের হাত থেকে মুক্তির একমাত্র পথ দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। এজন্য সবাইকেই রাজপথে নেমে আসতে হবে। এদিকে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে ঢাকায় বৃহৎ পরিসরে সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে দলটি।
একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘ভোট ডাকাতির নির্বাচন’ আখ্যায়িত করে নতুন নির্বাচন দাবি করে আসছে বিএনপি। যদিও এই দাবিতে নির্বাচনোত্তর শক্ত কোন কর্মসূচিই নেয়নি বিএনপি। গত এক বছর সাদামাটা কর্মসূচির মধ্য দিয়েই তারা পার করেছে। নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে এ মাসের শেষ দিকে তাই রাজপথে নতুন কর্মসুচি পালনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচির বিষয়টিও ভাবছেন বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা।