দিনরাত সেবা দিচ্ছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা

214

জীবননগর অফিস:
জীবননগরে দিন-রাত গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছেন মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে গোটা উপজেলায় যখন বৈদ্যুতিক লাইন লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে, তখনই সাধারণ গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে এবং তাঁদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে ২৪ ঘণ্টা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাইনের কাজ করে চলেছেন তাঁরা। এমনকি সবাই যখন পবিত্র ঈদুল ফিতর নিয়ে মহা আনন্দের মধ্যে দিন যাপন করছেন, তখনও তাঁরা নিজেদের এবং নিজের পরিবারের কথা না ভেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের দুর্যোগের কথা ভেবে নিজেদের সুখ শান্তি বিসর্জন দিয়ে রাতের আধারে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বৈদ্যুতিক পিলার ও তারের ওপর পড়া গাছ এবং রাস্তার ওপর পড়ে থাকা গাছ সরিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছেন মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনস্ত জীবননগর সাব জোনালের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গঙ্গাদাশপুর গ্রামের গ্রাহক জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকলে আমরা তাদের কত বাজে ভাষায় কথা বলি, যে ঝড় হলো এ ঝড়ের সময় যখন কারেন্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, আমরা মনে করলাম এ বছর হয়ত আর কারেন্ট আসবে না। তা ছাড়া এ ঝড়ের যে গতি মানুষ বাড়ি থেকে বের হবে কী করে। আমরা বাড়ি থেকে ভয়তে বের হতে পারছিলাম না। কিন্তু যে সময় কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছিল না, তখনও দেখি সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে পল্লী বিদ্যুত অফিসের কর্মকর্তারা লাইন ঠিক করছে, তাদের এই সেবার কথা ভোলার মতো নয়।’
লাইন টেকনেশিয়ান রবিউল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের সেবা করা আমাদের কাজ বর্তমান সময়ে মানুষ বিদ্যুত ছাড়া এক মুহূর্তে দিনযাপন করতে পারে না। আমরা যদি মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা না করে নিজেদের আনন্দের কথা চিন্তা করি, তাহলে এটা একান্তই ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে গেল। কিন্তু চাকরি করতে এসেছি মানুষকে সেবা করার জন্য, আর আমাদের এজিএম স্যার যখন দিনরাত আমাদের সাথে কাজ করছেন, সেখানে আমাদের বসে থাকার কোনো মানেই হয় না। যতটুকু পেরেছি, সাধারণ গ্রাহকদের সেবা দিয়েছি, আর সেবা দিয়ে যাব। সবাই খুশি হলে আমরা খুশি।’
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির অন্তর্গত জীবননগর সাব জোনালের এজিএম মোহাম্মদ মুহাইমেনুল ইসলাম বলেন, জীবননগর উপজেলায় ৮.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে উপজেলায় প্রতিটি গ্রামীণ সড়কে গাছ পড়ে পিলার, তার রাস্তায় পড়ে ছিল, এগুলো সরাতে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ঈদের দিন থেকে ১০৬ জন লেবার, ২৪টি ভ্যান নিয়ে ৫৯ জন টেকনেশিয়ান সঙ্গে করে দিনরাত কাজ করে সাধারণ মানুষের বিদ্যুত ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে জীবননগর পৌরসভার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লাইন দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো একটু সময় লাগলেও আমরা দ্রুত লাইন দিয়েছি। এখানে কোনো কর্মকর্তা গাফিলতা করেনি। সবাই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে কাজ করেছে। আমরা যেভাবে সেবা দিয়ে আসছি, আগামীতেও এভাবেই সেবা দিয়ে যাব।’