দিনভর বৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন ব্যাহত

256

সারাদেশে ঝড় বৃষ্টি ও বর্জপাত অব্যহত থাকবে আরো চার দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ৬ মে পর্যন্ত সারাদেশে বৃষ্টি ও ছোট আকারের কালবৈশাখী ঝড় অব্যাহত থাকবে। সেইসাথে বিজলি চমকানোসহ বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। এদিকে দিনভর বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন। গতকাল বুধবার সকালে হঠাৎ করেই আকাশ কালো অন্ধকারে ঢেকে যায়। মূহুর্তেই শুরু হয় বাতাস সাথে বৃষ্টি। সকাল থেকে টানা সন্ধ্যা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গাসহ আশেপাশের এলাকায় বিরতিহীনভাবে বৃষ্টিপাত হতে থাকে। দিনভর বৃষ্টিতে কেউই বাইরে বের হতে পারেনি। বুধবার সরকারী ছুটি থাকার কারণে স্কুল, কলেজ, অফিস আদালত বন্ধ থাকলেও বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুরদের। আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় জানান, আগামী ৬ মে পর্যন্ত সারাদেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। সেইসাথে দেশের অনেক অঞ্চলের ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাবে। তবে এরপর বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবণতা কিছুটা কমবে। তিনি জানান, ঝড় ও বৃষ্টির সাথে বিজলি চমকানোসহ বজ্রপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল সারাদিন বৃষ্টিপাতের সাময়িক বিরতি থাকলেও বিকেলের দিকে আবারো ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের কয়েকটি অঞ্চলে বৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বজ্রপাত হয়েছে। আজও সারাদেশে একই অবস্থা বিরাজমান থাকবে। আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান খান জানান, আগামী ১৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা আরও অধিক বেগে কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেইসাথে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীর তাড়াশে ৪১ মিলিমিটার এবং ঢাকায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে আজ দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য ২ নম্বর নৌ হুশিয়ারী সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অফিস জানায়, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালি, নোয়াখালি, কুমিল্লা এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘন্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ২ নম্বর হুশিয়ারী সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একাটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।