দামুড়হুাদা উপজেলায় বাস্তুহারা স্বামী পরিত্যাক্তা ফাতেমা খাতুনের ছেলে সজিব গোল্ডেন জিপিএ পেলেও ভর্তি অনিশ্চিত

160

Sajibআওয়াল হোসেন: চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুাদা উপজেলায় ভিটেমাটি হারা স্বামী পরিত্যাক্তা ফাতেমা খাতুন ঝি-এর কাজ করে তার ছেলে সজিবকে গোল্ডন এ প্লাস পেয়ে পাশ করালেও থেমে নেই সজিবের আজন্ম কান্না। তার কান্নার কারণ কে দেবে তার এইচ এসসি ভর্তি খরচের টাকা। কে দেবে তার পাঠ্যপুস্তক কিনে? তার জীবনের লক্ষ্যে পৌছাঁতে পারবে তো? তার স্বপ্ন সে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হবে। অথচ তার সামনে গহীন অন্ধকার। এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকে তার মা ফাতেমাকে বার বার বলছে মা ভর্তির টাকা কোথায় পাব? সজিবের কাছে তার পারিবারিক বিষয় জানতে চাইলে, সবিজ ও সজিবের মা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দহুদা গ্রামে। আমার সজিব যখন ক্লাস ওয়ানে পড়ে তখন আমার স্বামী আমাকে তালাক দিয়ে চলে যায়। এরপর থেকে আমি লোকের বাড়ি ঝিয়ের কাজ করে আমার ছেলে সজিবকে লেখাপড়া করিয়ে আসছি। সে দামুড়হুদা উপজেলার নাপিতখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পায়। নাপিতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিই। সে অষ্টম শ্রেনীতে বৃত্তি না পেলেও ভাল ফলাফল করে। এরপর শিক্ষকদের কথামত ৯ম শ্রেণীতে ভর্তি করে দিই। শিক্ষকরা আমার ছেলেকে লেখাপড়ার ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে এসেছে। ফলে ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন এ প্লাস পায় সে। সজিবের পিতার কথা জিজ্ঞাসা করতেই সজিব কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং বলে আসলে ভাই আমার জীবনটা একটু অন্যরকম। আমি তখন সবেমাত্র ক্লাস ওয়ানে। এসময় আমার পিতা খোকন আলী আমার মাকে তালাক দেয়। তারপর থেকে আমি আমার পিতার আদর থেকে বঞ্চিত। আমি আমার মা’র একমাত্র সন্তান। দিনমুজুর নানা জিন্নাত আলীর নাপিতখালীস্থ ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে আসছি। আর আমার মা স্বামী পরিত্যক্তা। এক মুঠো পেটের ভাত জোগাতে অন্যের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করে এবং লোকের কাঁথা সেলাই করে আমার পড়ার খরচ যুগিয়ে যাচ্ছে। আমার কাঙ্খিত ফলাফলের সবটুকুই আমার মায়ের অবদান। আমাদের কোন জমিজমা নেই, এমনকি ভিটেমাটিও নেই। নাপিতখালী গ্রামের উত্তরপাড়ায় অন্যের পরিত্যাক্ত জমিতে মাঠের মধ্যে ঝুপড়ি বেঁধে বসবাস করছি। রাত হলেই গ্রামের দুর সম্পর্কের আত্মীয় বাদলের বাড়িতে রাতযাপন করে চলছি। লেখাপড়া করতে হয় ল্যাম্পের আলোয়, কখনো কখনো বাদলের বাড়ির বাইরে বিদ্যুতের আলোয়। সজিব এসময় আবেগ আপ্লুত হয়ে বলে জানেন ভাই অর্থাভাব ও খাদ্যাভাব আমাদের নিত্যদিনের সাথী। এমন অনেক দিন গেছে আমার মা আর আমি না খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়েছি। বাদল চাচার বাড়িতে মাকে যে খাবার দিতো, মা না খেয়ে বাড়ি এসে মা-ছেলে ভাগ করে খেয়ে থেকেছি। মাকে অনেক কষ্ট করতে হয়। এসব কষ্ট এখন আমার গাসওয়া হয়ে গেছে। আমার স্বপ্ন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হবো। আমি জানি না আমার নিয়তি আমায় কোথায় নিয়ে যাবে। সজিবের মা ফাতেমা বলেন, আমার জীবনে আর চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। আমার একমাত্র সন্তান সজিবকে মানুষের মত মানুষ করতে পারলেই আমি খুশি। ছেলেকে লেখাপড়া করানোর খরচ অনেক। তারপরও যেন স্বপ্ন থেমে নেই। তবে বাস্তবে কতটা এগিয়ে যেতে পারে তা এখন দেখার বিষয়। তবে জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও ছেলেকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলতে সজিবের মায়ের অদ্যম ইচ্ছা- ছেলে সজিবের স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়িত হবে তা এখন অপেক্ষার পালা। তবুও অনিশ্চিতের পথে আলোর পথে সজিব এগিয়ে যাচ্ছে।