দামুড়হুদায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের করুণ মৃত্যু

70

প্রতিবেদক, দামুড়হুদা:
দামুড়হুদায় টিউবওয়েল থেকে পানি নিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হাসান (১৮) নামের এক মাটিকাটা শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবক হাসান দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের জয়রামপুর মাঠপাড়ার সোহেলের ছেলে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে লোকনাথপুর মাহিন হ্যাচারীর মধ্যে ওই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের জয়রামপুর মাঠপাড়ার সোহেলের ছেলে হাসান বেশ কিছুদিন ধরে তারানীপুরের সাইদুরের ট্রাক্টরে মাটি কাটার কাজ করে আসছিল। লোকনাথপুরস্থ মাহিন হ্যাচারির মধ্যে পরিত্যক্ত পুকুরটি পূন:খননের জন্য মাটি কাটা হচ্ছিলো। প্রায় মাস খানেক চলছিল ওই পুকুর পূন:খননের কাজ। পুকুরের মাটি কেটে দেয়া হচ্ছিলো কাঁঠালতলাস্থ শেখ ইটভাটায়।
ট্রাক্টর চালক জয়রামপুর হাজিপাড়ার শরীফ জানান, প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল সকালে হাসানসহ অপর ৩ ট্রাক্টর শ্রমিক জয়রামপুর নওদাপাড়ার জহির, মাঠপাড়ার কাওছার ও তারানীপুরের বাক্কা ওই পুকুরে যায় মাটি কাটার জন্য। মাটি কেটে ট্রাক্টরে লোড দেয়ার পর হাসান ভাত খাওয়ার জন্য থেকে যায় এবং বাকী শ্রমিকরা মাটি নামাতে ট্রাক্টর নিয়ে চলে আসে শেখ ইটভাটায়। ওই সময় হাসান ভাত খাওয়ার জন্য পানি আনতে যায় মাহিন হ্যাচারির মধ্যে থাকা টিউবওয়েল থেকে। হাসান টিউবওয়েলের সাথে যুক্ত থাকা মোটরের সুইচ অন করে টিউবওয়েলের হ্যান্ডেলে হাত দেয়ার সাথে সাথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আছড়ে পড়ে। তাকে মূমুর্ষূ অবস্থায় ভ্যানযোগে দ্রুত লোকনাথপুরের চিকিৎসক চাঁদ গোপালের কাছে নেয়ার সময় পথিমধ্যে মারা যায় হাসান।
মাহিন হ্যাচারির সুপারভাইজার রফিকুল ইসলাম জানান, হাসান যখন পানি নিতে আসে তখন সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল ফার্মের শ্রমিক মহিদুল। সে দ্রুত মোটরের সুইচ অফ করে এবং হাসানকে তুলে দাঁড় করায়। হাসান হাটতে পারবে বলে জানালে মহিদুল তার হাত ছেড়ে দেয়। এ সময় হাসান কয়েক পা হাটার পর মাটিতে পড়ে যায় এবং জ্ঞান হারায়। তিনি আরও জানান, ফার্মের গেটের সামনেই একটি পানির ট্যাপ রয়েছে। ওই ট্যাপ থেকেই অন্যান্য দিন পানি নেয়। আজ মৃত্যু ডাক দিয়েছে বলেই হয়তা সে ওই গেট টপকে টিউবওয়েল থেকে পানি নিতে এসেছিল।
এ দিকে হাসানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। মা জাহিমা খাতুনসহ স্বজনদের কাঁন্না আর আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে আসে। দুপুর আড়াইটার দিকে হাসানের লাশের ময়না তদন্ত ছাড়াই নিজ গ্রামের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। ২ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে নিহত হাসান ছিল সকলের বড়।