দামুড়হুদায় বহুল আলোচিত ভি.জে স্কুলের মেধাবী ছাত্র সাজীব অপহরণ ও খুন গুম মামলার মূল আসামী রাকিবের পর দু সহযোগী শাকিল ও সবুজ র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত : অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার

356

chuadanga pic-2 (2)

দর্শনা অফিস/দামুড়হুদা প্রতিনিধি: দামুড়হুদায় বহুল আলোচিত ৮ম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র মাহফুজ আলম সজীব হত্যা মামলার অন্যতম আসামী শাকিল ও সবুজ র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। বুধবার দিনগত রাত পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার দর্শনা শান্তিপাড়ার বাইপাস সড়কের পাশে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। দামুড়হুদা উপজেলা শহরের ব্রীজ পাড়ার আব্দুল কাদেরের ছেলে শাকিল ও সবুজ চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের সিএ্যান্ডবি পাড়ার মৃত. হামিদুলের ছেলে। শাকিল ও সবুজ র‌্যাবের ক্রস ফায়ারে নিহতের ঘটনা জানাজানি হলে সকাল থেকেই এলাকার হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা দামুড়হুদা মডেল থানায় লাশ দেখার জন্য ভীড় শুরু করে। র‌্যাব-৬ এর ঝিনাইদহ আঞ্চলিক ক্যাম্প সুত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সরকারী ভি.জে স্কুলের ৮ম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র ও দামুড়হুদা ব্রীজ পাড়ার মৃত. হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহাফুজ আলম সজীব হত্যা মামলার অন্যতম আসামী সবুজ ও শাকিল কে নিয়ে র‌্যাবের একটি দল রাতে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা শান্তিপাড়া এলাকায় অপহরণচক্রকে ধরতে যায়। এসময় র‌্যাবের গাড়িটি দর্শনার শান্তিপাড়া বাইপাস সড়ক অতিক্রম করার সময় একদল দুস্কৃতি গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাব পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা পিছু হটে। পরে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে সবুজ ও শাকিলের গুলিবিদ্ধ লাশসহ একটি রিভলবার, একটি শার্টারগান, দুইটি হাসুয়া ৪ রাউন্ড বন্দুকের গুলি উদ্ধার করেন। নিহত শাকিল দামুড়হুদা উপজেলা শহরের আব্দুল কাদেরের ছেলে ও সবুজ চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের সিএ্যান্ডবি পাড়ার মৃত. হামিদুলের ছেলে। রাজিব হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে দামুড়হুদায় স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরাসহ সর্ব সাধারণ মানুষ একাধিক বার মানববন্ধন করেন। প্রসঙ্গত গত ১৭ সেপ্টেম্বর র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে মারা যায় স্কুলছাত্র সজীব অপহরন-খুন গুমের মুল হোতা চুয়াডাঙ্গা আলুকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার রাকিবুল ইসলাম রাকিব। উলে¬খ্য, গত ২৯ জুলাই সন্ধ্যার পর দামুড়হুদা উপজেলা চত্ত্বরে আয়োজিত বৃক্ষমেলা থেকে মেধাবী স্কুল ছাত্র সজীবকে প্রতিবেশী শাকিল কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের ৩২ দিনের মাথায় গত ৩১ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের সিএন্ডবি পাড়ার একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে সজিবের গলিত লাশ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ র‌্যাব সদস্যরা। চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জ সিএ্যান্ডবি পাড়ায় রাকিব মেম্বরের কথিত চার্জার লাইটের কারখানায় সজিবকে আটকে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় তার পরিবারের কাছে। একপর্যায়ে হত্যা করে ওই ডেরার উঠোনে সেপটিক ট্যাংকে গুম করা হয় লাশ।
এদিকে র‌্যাব-৬ এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চুয়াডাংগা জেলার দামুড়হুদা থানাধীন দর্শনা পরানপুর বেলে মাঠ (শান্তি নগর) নামক স্থানে পাকা রাস্তা সংলগ্ন পশ্চিম পার্শ্বের বৈদ্যুতিক থাম্বার নিকটস্থ র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মাহফুজ আলম সজীব হত্যাকারী শাকিল ও সবুজ নিহত এবং অস্ত্রশস্ত্র উদ্বার প্রসঙ্গে। ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ঃ অদ্য ২০/১০/২০১৬ ইং তারিখ রাত ০১.৩০ ঘটিকার সময় সিপিসি-২, র‌্যাব-৬, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের টহল কমান্ডার ডিএডি মোঃ আঃ আউয়াল এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আঃ রাজ্জাক, ২৭২/এএসআই (নিঃ)  এইচ এম এরশাদ, ১৭৭৭/কনস্টেবল মোঃ শামীম আল মামুন, ৩৭০২/কনস্টেবল মোঃ শফিকুল আলম ও ২৫৭৯/কনস্টেবল (ড্রাইঃ) মোঃ মাসুদ রানা কর্তৃক টহল পরিচালনার সময় চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুরহুদা থানাধীন এলাকায় অবস্থান করাকালে গোপন সংবাদে জানতে পারে যে, দামুরহুদা থানাধীন দর্শনা পরানপুর বেলে মাঠ (শান্তি নগর) নামক স্থানে পাকা রাস্তা সংলগ্ন পশ্চিম পার্শ্বের বৈদ্যুতিক থাম্বার নিকটস্থ ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করিতেছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে ইং২০/১০/১৬ তারিখ রাত অনুমান ০১.৪৫ ঘটিকার সময় উক্ত স্থানে উপস্থিত হলে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা র‌্যাবের টহলগাড়ী দেখতে পেয়ে এলোপাতাড়িভাবে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে। তখন র‌্যাব সদস্যরা তাদের আত্মরক্ষার জন্য টহলরত র‌্যাব সদস্য কং/১৭৭৭ মোঃ শামীম আল মামুন ০৬ রাউন্ড এবং ৩৭০২/কনস্টেবল মোঃ শফিকুল আলম ০৫ রাউন্ড গুলিসহ মোট ১১ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ফায়ার করেন। উলে¬খিত ফায়ারকৃত র‌্যাব সদস্যদ্বয় ফায়ার করার সময় আহত হয়। পরবর্তীতে টহল দল ঘটনাস্থলে এগিয়ে গেলে অজ্ঞাতনামা ০২ জন ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।