দামুড়হুদায় ছেলেধরা সন্দেহে দুই নারী আটক

207

দর্শনা অফিস:
দামুড়হুদার বারাদিতে ছেলেধরা সন্দেহে দুই নারীকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে বারাদি গ্রাম থেকে তাঁদের আটক করা হয়। আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ভারতের পারুলিয়া জেলার হুরুয়া উপজেলার দাপানি ইউনিয়নের ওমাচরনের মেয়ে ও অনিলের স্ত্রী পদ্মা (৬৫) ও বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ভাংগা উপজেলার ঘাওড়া ইউনিয়নের শরিফাবাজ চৌকিগাবা গ্রামের মৃত রতনের স্ত্রী শিউলী খাতুন (৪৫)। পরে তাঁদের দামুড়হুদা থানা-পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের বারাদি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সন্নিকটে অপরিচিত দুই নারীকে দেখে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। এ সময় তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে উপস্থিত লোকজনের ওপর আক্রামণ চালান তাঁরা। এতে গ্রামের গৃহবধূ জাকি, শাহানাজ, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মোস্তাকিনসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। খবর পেয়ে গ্রামের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছেলেধরা সন্দেহভাজন ওই দুই নারীর কবল থেকে তাদের রক্ষা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন বারাদি বিজিবি ক্যাম্পে খবর দিলে বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বিজিবির সদস্যরা এসে সন্দেহভাজন ওই দুই নারীকে হেফাজতে নেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুই নারী তাঁদের পরিচয় জানান। তাঁদের মধ্যে একজন ফরিদপুর জেলার ভাংগা উপজেলার ঘাওড়া ইউনিয়নের শরিফাবাজ চৌকিগাবা গ্রামের মৃত রতনের কন্যা শিউলী (৪৫) ও অপরজন ভারতের পারুলিয়া জেলার হুরুয়া উপজেলার দাপানি ইউনিয়নের অনিলের স্ত্রী পদ্মা (৬৮)।
স্থানীয় লোকজন আরও জানান, ছেলেধরা সন্দেহভাজন ওই দুই নারীর কাছে নগদ সাড়ে নয় শ টাকা ও একটি বস্তার মধ্যে একটি সিগারেটের প্যাকেটের মধ্যে সিজারিয়ান ব্লেডসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র দেখা যায়।
বারাদি বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার শাহ আলম জানান, ‘গ্রামবাসী ছেলেধরা সন্দেহে দুই নারীকে আমাদের নিকট হস্তান্তর করেছে। তাঁদের অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তায় মনে হচ্ছে তাঁরা পাগল। পরে তাঁদের দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশে দেওয়া হয়েছে।’
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস জানান, ‘বিজিবি দুই নারীকে আমাদের থানায় দিয়ে গেছে। তবে তাঁরা ছেলেধরা না, পাগল-টাগল হবে। আমরা তাঁদের সম্পর্কে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করছি। তথ্য পেলেই প্রকৃত ঘটনাটি জানা যাবে।’