দামুড়হুদার সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়েরকৃত মামলায় হুজি নেতা আব্দুল আলিম গ্রেফতার : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী : চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে বড় নাশকতার পরিকল্পনা ছিলো হুজির

320

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানার সন্ত্রাস বিরোধী মামলার আসামী নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) সামরিক শাখার প্রধান আব্দুল আলিমকে (৫০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। গতকাল শনিবার ভোরে ঝিনাইদহ জেলার হাটগোপালপুর গ্রামের একটি কবরস্থান এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল দুপুরে গ্রেফতারকৃত আব্দুল আলিমকে দামুড়হুদার ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গার আমলি আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হুজি নেতা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। আদালতের বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা ছিলো বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেন তিনি। গ্রেফতারকৃত হুজি নেতা আব্দুল আলিম সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা উপজেলার অভয়তলা গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে।
র‌্যাব-৬ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে হুজির প্রশিক্ষিত সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলাতে নাশকতার বড় পরিকল্পনা করছে এমন খবরের ভিত্তিতে তাদের ধরতে গোয়েন্দা জাল পাতে র‌্যাব-৬। গত শুক্রবার রাতে র‌্যাব-৬ সদস্যরা গোপন সংবাদে খবর পান যে হুজির ঝিনাইদহ জেলার সামরিক শাখার প্রধান আব্দুল আলিম হাটগোপালপুর এলাকায় অবস্থান করছে। এরপরই তাকে ধরতে র‌্যাব-৬ এর ৪টি টিম অভিযান শুরু করে। ভোরে ওই এলাকার একটি কবরস্থানের সামনের রাস্তা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। র‌্যাব-৬ এর ঝিনাইদহ ক্যাম্পের এএসপি গোলাম মোর্শেদ জানায়, গ্রেফতারকৃত আব্দুল আলিম হুজির আধ্যাতিক নেতা মুফতি হান্নানের ঘনিষ্ট সহযোগী ছিলো। হলি আর্টিজমের হামলার পর হুজির ৮/১০ জনের একটি দল এই অঞ্চলে অবস্থান নেয়। র‌্যাবের এই কর্মকর্তার দাবি গ্রেফতারকৃত হুজির এই নেতার নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলাতে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিলো। গ্রেফতারের পর এ কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব-৬। দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হুজির ওই নেতাকে চুয়াডাঙ্গার আমলি আদালতে নেওয়া হয়। তাকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানায় একটি সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। হুজি নেতা আদালতের বিচারক আব্দুল হালিমের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।