দল গোছানো চ্যালেঞ্জে বিএনপি

13

সমীকরণ প্রতিবেদন:
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৮১টি সাংগঠনিক জেলা গুছিয়ে ফেলতে চায় বিএনপি। এর মধ্যে অঙ্গ সহযোগী সব সংগঠনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের চ্যালেঞ্জও রয়েছে দলটির। সাংগঠনিক ৮১টি জেলার মধ্যে অন্তত ৪০টি জেলায় আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের দুই শীর্ষ পদে নির্বাচনের মাধ্যমে নেতা বানানো হয়েছে। তারা এখন সব গ্রুপের নেতাদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।
জানা যায়, জাতীয়তাবাদী যুবদলকে আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপর পুনর্গঠন করা হবে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলও। অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনগুলোতেও ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটি করার টার্গেটে বিএনপি। দলটির আশা, এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিলাভ করবেন। তাকে নিয়েই নতুন বছরের শুরুর দিকে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বেগম জিয়াকে মুক্ত করা আমাদের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনের প্রস্তুতিও নিচ্ছি। এর আগেই আমরা দল গুছিয়ে ফেলতে চাই। দল ও অঙ্গ সংগঠনের পুনর্গঠন কার্যক্রম চলছে। আশা করছি, চলতি বছরের মধ্যেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ হবে।’
জানা যায়, বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা হাইকমান্ডের কাছে দাবি করেছেন, ছাত্রদলের মতো সামনে বিএনপিসহ সব অঙ্গ সংগঠনের কমিটিই যেন কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সব কমিটিই যেন নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়। যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলেও কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটি চায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। যুবদলের বাকি মাত্র তিন মাস। তারপরও নানা কারণে এই দুই অঙ্গ সংগঠনের আংশিক কমিটি এখন পূর্ণাঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। এ নিয়ে হতাশ মাঠের নেতা-কর্মীরা। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ফজলুর রহমান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ইকবাল হোসেন শ্যামল। ষষ্ঠ কাউন্সিলে নয়জন সভাপতি প্রার্থী এবং ১৯ জন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর মধ্য থেকে দুই পদে দুজনকে বেছে নিতে ভোট দেন ছাত্রদলের ১১৭টি সাংগঠনিক শাখার ৫৩৪ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৪৮১ জন।
এর আগে ছাত্রদলের রাজিব-আকরামের ‘ঢাউস’ কমিটি ছিল। দলের হাইকমান্ড এতে ক্ষুব্ধ হয়। সেখানে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ছিল ৭৩৬ সদস্যের। ছাত্রদলের বর্তমান নেতৃত্ব জানায়, তারা দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১৫১ বা সর্বোচ্চ ১৭১ সদস্যের কমিটি করার চেষ্টা করবেন। সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়েই কমিটি করতে চান। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই কমিটি হবে- এমনটা আশা প্রকাশ করে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, নানা প্রতিকূল পরিবেশেও আমরা কমিটি গঠন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এর মধ্যে বুয়েট পরিস্থিতিসহ নিয়মিত আমরা ক্যাম্পাসে যাচ্ছি। তারপরও সবাইকে নিয়েই আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে চাই।
যুবদল সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ নিয়ে যুবদলের নেতারা কাজও শুরু করেছেন। ৮২টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৮০টিতে কমিটি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬২টি জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। বাকিগুলো আংশিক কমিটি। সিলেট জেলা ও মহানগরে কমিটি হয়নি। এ ছাড়া পঞ্চগড় জেলা কমিটি বাতিল করা হয়েছে। দলের গঠনতন্ত্রে ২১১ সদস্যের কমিটি করার কথা বলা হয়েছে। এর আগে ছিল ২৭১ সদস্যের কমিটি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির হাইকমান্ড বলেছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২১১ সদস্যের কমিটিই করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব বলেন, দলের হাইকমান্ডের নতুন করে নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কমিটি করার চিন্তাভাবনা করছি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২১১ সদস্যের মধ্যে কমিটি সীমাবদ্ধ থাকবে বলে আশা করছি। কমিটি নিয়ে কাজ চলছে। যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, প্রতিকূল পরিবেশসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। এখন নতুন করে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে কাজ চলছে। খুব শিগগিরই আমরা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারব ইনশা আল্লাহ।
স্বেচ্ছাসেবক দল সূত্রে জানা যায়, সংগঠনটির ৮১টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে। ৩০টি জেলায় আংশিক কমিটি। বাকি ছয়টি জেলায় নতুন করে কমিটি দেওয়া হবে। আংশিক কমিটিগুলোও দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ করা হবে। যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর যত দ্রুত সম্ভব স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি দেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল জানান, নানাবিধ কারণে যথাসময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। এখন আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে চাই।