দর্শনায় বেড়েছে পকেটমারের দৌরাত্ম্য!

48

চিকিৎসার ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা খোয়ালেন রাজশাহীর ইয়াকুব
দর্শনা অফিস:
দর্শনা হল্ট স্টেশন যেন পকেটমারদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এই এলাকায় দিনে দিনে বাড়ছে পকেটমারের দৌরাত্ম্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ট্রেনযাত্রীরা স্বাধীনভাবে ট্রেনে ওঠা-নামা করতে গিয়ে এ পকেটমারদের শিকার হচ্ছেন। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে ইয়াকুব নামের এক ব্যক্তির চিকিৎসার ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা পকেটমার হয়ে যায়।
জানা যায়, রাজশাহী জেলার বেলপুকুর থানার মাহেন্দ্রা গ্রামের এজহারুল হকের ছেলে ইয়াকুব আলী (৪২) তাঁর ফুফু শাশুড়ি জুলেখা বেগমকে (৫০) নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশে ভারতে যাওয়ার জন্য গতকাল সকালে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সাগরদাড়ী এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ট্রেনটি দর্শনা হল্ট স্টেশনে পৌঁছালে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ রোগী নিয়ে নামার সময় ইয়াকুব আলীর গোপন পকেটে থাকা নগদ ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা পকেট মেরে নেয় পকেটমারেরা। ট্রেন থেকে নামার পর স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে টাকার কথা মনে হলে পকেটে হাত দিলে তিনি দেখতে পান, তাঁর পকেট কেটে চিকিৎসার সব টাকা পকেটমার হয়ে গেছে। এ সময় ইয়াকুব আলী কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ইয়াকুব আলী জানান, তাঁর ফুফু শাশুড়ি দীর্ঘদিন যাবৎ দুরারোগ্য রোগে ভুগছেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়ে অর্থ-সংকটে পড়ায় অবশেষে মাঠের জমি বিক্রি করে তাঁকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের সদস্যরা। এর মধ্যে দর্শনা হল্ট স্টেশনে ট্রেন থেকে নামার সময় এ পকেটমারের ঘটনা ঘটে। পরে মুঠোফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশের মাধ্যমে অল্প কিছু টাকা নিয়ে তাঁরা প্রাথমিক চিকিৎসা করাতে যাচ্ছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, বেশ কয়েকবার এসব পকেটমারদের ধরে পুলিশে দিলেও আবার তাদের দেখা মিলেছে দর্শনার হল্ট স্টেশনে। এ পকেটমারদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের যোগাযোগ রয়েছে বলেও তাঁদের ধারণা। যদি জিআরপি পুলিশ একটু নজরদারি বাড়ায়, তাহলে হয়তো এ ধরনের ঘটনাসহ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ ব্যবসা রোধ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে দর্শনা জিআরপি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তবিবুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। আমরা সর্বদা চেষ্টা করি, যাত্রীদের সেবা দেওয়ার জন্য। তবে পকেটমার রোধসহ প্ল্যাটফর্মের পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনার জন্য যা করণীয়, আগামীতে তাই করব আমরা।’
এ বিষয়ে জিআরপি পোড়াদহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সলেমান জানান, ‘আমি শুনেছি, সাগরদাড়ী ট্রেনে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে পুলিশের পাশাপাশি এই পটেমারদের ধরতে স্থানীয় লোকজন একটু সহযোগিতা করলে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।’