দর্শনার শান্তিনগরের অশান্তির হোতা হৃদয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

463

তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী : চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইসহ ১৪ মামলার আসামী
আওয়াল হোসেন/ওয়াসিম রয়েল : পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও এলাকার চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১৪ মামলার আসামী দর্শনার শান্তি নগরের হৃদয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ২টি কার্তুজের খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গতকাল সকাল ৭টার দিকে দর্শনা পৌর এলাকার পরানপুর বেলেমাঠ সংলগ্ন স্থানে পাকা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিনের ন্যায় সাধারন মানুষ চলাচল শুরু করে। এসময় কয়েকজন কৃষক ঐ রাস্তা দিয়ে কৃষি কাজের জন্য তাদের জমিতে যাওয়ার সময় এক জনকে পাকা রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে। ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তমাখা লাশ দেখে এলাকাবাসীকে খবর দেয় কৃষকেরা। এলাকায় পড়ে থাকা লাশের খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা লাশ দেখতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। পরে এলাকাবাসী ও জনগন লাশ দেখে চিনতে পারে এটা দর্শনা পৌর এলাকার শান্তি নগরের বাচ্চু মিয়ার ছেলে আলোচিত মাদক ব্যাবসায়ী হৃদয় (২২)। এসময় পুলিশকে খবর দিলে দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের ওসি (তদন্ত) ইউনুচ আলী ও দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ যৌথ উদ্যোগে পরানপুর বেলে মাঠ সংলগ্ন স্থানের পাকা রাস্তার উপর থেকে গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে। এছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২টি কার্তুজের খালি খোসা উদ্ধার করে।
দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের ওসি ইউনুস আলী জানান, হৃদয় দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিনগর মাঠ পাড়ার বাচ্চু মিয়ার ছেলে। সে পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী। দীর্ঘদিন ধরে সে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মের হোতা হিসাবে কাজ করছিল।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার কুন্ডু জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হৃদয় নামের এক তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও কুখ্যাত সন্ত্রাসীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২টি কার্তুজের খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হৃদয়ের নামে মাদক, মারামারি, ছিনতাই, ডাকাতি প্রস্তুতি ও ডাকাতিসহ মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। তবে পুলিশ ধারনা করছে মাদক কেনাবেচা ও টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দু-পক্ষের গোলাগুলিতে এ হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে হৃদয়ের পরিবারপক্ষ থেকে তার মা শিরিনা খাতুন দাবি করেন, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শান্তিনগর ফারুকের দোকানের পিছন থেকে কয়েকজন সাদা পোশাকধারী পুলিশ আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় এলাকার কয়েকজন দেখলে আমাদের বাড়িতে খবর দিলে আমরা দর্শনা তদন্ত কেন্দ্র, দামুড়হুদা মডেল থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করি। কিন্তু পুলিশ বলে আমরা এ নামের কাউকে আটক করিনি। পুলিশ জানায় ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বিকাল ৫টার দিকে তার পরিজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা হতে পারে বলে জানায় পুলিশ। পরিবার পক্ষ থেকে জানাযায় গতকাল মাগরিব নামাজের পর শান্তিনগর সুগন্ধা মাঠে হৃদয়ের লাশের জানাযা শেষে মোবারকপাড়া সরকারি গোরস্থানে লাশের দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।