দক্ষ শিক্ষকের অভাব

15

নিয়োগবাণিজ্যের অবসান হোক
শিক্ষার ভিত্তি বহুলাংশেই তৈরি হয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার এই দুটি স্তরই অত্যন্ত দুর্বল। আর সেই দুর্বলতার প্রধান কারণ দক্ষ শিক্ষকের অভাব। সম্প্রতি প্রকাশিত গণসাক্ষরতা অভিযানের এডুকেশন ওয়াচ ২০১৮-১৯ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে মাত্র ১৫ শতাংশ শিক্ষক দক্ষ এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে দক্ষ মাত্র ০.৪ শতাংশ শিক্ষক। এ ছাড়া আছেন পরিমিত দক্ষ ৩৯.৮ শতাংশ, গড়পড়তা দক্ষ ২৭.৬ শতাংশ, সীমিত দক্ষতা আছেন ১৩.৭ শতাংশ এবং একেবারেই অদক্ষ শিক্ষক আছেন ৩.৫ শতাংশ। এমন দক্ষতা নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদান প্রায় অসম্ভব। তার প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে। সরকার নানামুখী চেষ্টা নিলেও সেগুলোর তেমন সাফল্য নেই। এমপিওভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকার শতভাগ বেতন দিলেও এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রভাষক ও সহকারী শিক্ষক ছাড়া অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে কর্মচারীদের নিয়োগ দেয় স্কুল পরিচালনা পর্ষদ। আর সেই নিয়োগ যে টাকার বিনিময়ে হয় তা এখন ওপেন সিক্রেট। এতে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন হয় না। জানা যায়, একজন অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। নিয়োগের পর শিক্ষার মানের দিকে নজর না দিয়ে তাঁরা সেই টাকা উসুল করতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ২০১৫ সাল থেকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করে আসছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। ফলে এই দুটি পদে শিক্ষক নিয়োগের মান কিছুটা উন্নত হয়েছে। কিন্তু অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা রাখা হয়েছে গভর্নিং বডি ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির হাতে। তাই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগবাণিজ্য এখনো রমরমা। আর এর আত্মঘাতী পরিণাম ভোগ করছে আমাদের শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, বাকি নিয়োগও এনটিআরসিএর হাতে নিতে চায় সরকার। এ জন্য বিধি-বিধান প্রণয়নের কাজ চলছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়াটি যাতে দ্রুত সম্পন্ন করা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিতে হবে। তা না হলে দেশে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন করাও সম্ভব হবে না। তদুপরি নিয়োগবাণিজ্যের মাধ্যমে বা ঘুষ দিয়ে যেসব শিক্ষক নিয়োগ পাবেন, তাঁদের যেমন মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে যোগ্যতার অভাব থাকবে, তেমনি অনৈতিক উপায়ে চাকরি পাওয়া শিক্ষকের পক্ষে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়াও সম্ভব নয়। আমরা আশা করি, সরকার এই পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে কঠোর অবস্থান নেবে।