থেমে নেই সড়ক দুর্ঘটনা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে

133

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে। ছোটদের বড় আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বোধোদয় হয়েছে বলে মনে হয় না। যানবাহনের মালিক, চালক কারো আইনের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা আছে বলেও মনে হয় না। আন্দোলনের পরও কমেনি সড়ক দুর্ঘটনা। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি। অদক্ষ চালকের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে যানবাহন। আইনের তোয়াক্কা না করে সড়ক-মহাসড়কে উঠে আসছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না বা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এর ফল যে কী হতে পারে, তা প্রতিদিনের সংবাদপত্রের পাতায় দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। গত বৃহস্পতিবার বাস ও থ্রি হুইলার সংঘর্ষে ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তিন জেলায় নিহত আরো ছয়জন। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, শুধু আন্তরিকতা নেই বলেই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি। সরকারি হিসাব মতে, দেশে ৩২ লাখ গাড়ির সরকারি নিবন্ধন থাকলেও ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে ২৫ লাখের। অর্থাৎ বাকি যানবাহন তুলে দেওয়া হয়েছে লাইসেন্সবিহীন চালকদের হাতে। নিয়ম অনুযায়ী চালকদের প্রথমে হালকা গাড়ির লাইসেন্স নিতে হয়। এর তিন বছর পর মাঝারি গাড়ির লাইসেন্স পাওয়া যায়। ভারী গাড়ির লাইসেন্স নিতে আরো তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়। এরপর যে চালক বাস চালাতে চায়, তাকে পিএসভি নামে ভিন্ন আরেকটি লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চালকরা এত দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে চায় না। হালকা বা মাঝারি গাড়ি চালানোর লাইসেন্স নিয়েই অনেকে বাস চালাচ্ছে। এর বাইরে আছে নিবন্ধনহীন স্বল্পগতির যানবাহন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাসহ সড়ক-মহাসড়কে চলছে তিন চাকার স্বল্পগতির যানবাহন। গত বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জের হরিদাসপুরে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে থ্রি হুইলারের এই সংঘর্ষ হয়েছে। দেশে মানুষ বাড়ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যানবাহন চলাচল বেড়েছে। নতুন নতুন রুট চালু হচ্ছে। ফলে যানবাহনের সংখ্যাও বেড়েছে। ২২টি জাতীয় মহাসড়কে থ্রি হুইলার অটোরিকশা, নসিমন-করিমন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি মহাসড়কে চার লেন চালু হয়েছে, স্থাপন করা হয়েছে সড়ক বিভাজক। নির্মিত হয়েছে আন্ডারপাস-ওভারপাস। মাঝেমধ্যে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযানও চালানো হয়। সড়ক-মহাসড়কের আধুনিকায়নও হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। বিআরটিএ সড়ক নিরাপত্তা ইউনিট গঠন করেছে। সড়ক নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রচার প্রচারণা, রোড শো করেও নিশ্চিত করা যায়নি সড়ক নিরাপত্তা। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে হলে যানবাহনের মালিক ও চালকদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আইন মেনে চললে দুর্ঘটনার হার অনেকাংশে কমে আসবে বলে আমরা মনে করি।