থমথমে ভোলা আল্টিমেটাম

48

মামলায় আসামি ৫০০০, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ
সমীকরণ প্রতিবেদন:
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে মুসল্লিদের সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজার লোককে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। গত রোববার রাতে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আজিজুর রহমান এ মামলা করেন । মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশকে দায়িত্বপালনে বাধা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
এনামুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও, পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত করতে পারেনি।
ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় মুসলিম ঐক্য পরিষদকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে জেলায় চার প্লাটুন বিজিবি, দুই প্লাটুন র‌্যাব ও বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহতের ঘটনায় পুলিশ সুপার (এসপি) ও বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ওসির প্রত্যাহার দাবিসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ’। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা বশির উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রাখার স্বার্থে সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলমান থাকবে। এ সময় তিনি তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ মঙ্গলবার জেলার সব উপজেলায় বিক্ষোভ, বৃহস্পতিবার মানববন্ধন ও শুক্রবার নিহতদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত। সংবাদ সম্মেলনে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব মাওলানা মিজানুর রহমান ৬ দফা দাবি তুলে দরে বলেন, আল্লাহ এবং নবী-রাসুলদের নিয়ে কটূক্তিকারীর বিরুদ্ধে যদি দেশে কঠিন শাস্তির আইন থাকতো তাহলে রোববার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হতো না।
তিনি বলেন, আল্লাহ, মহানবী (সা.) ও ইসলামকে ব্যঙ্গ ও কটূক্তিকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন করতে হবে। বিপ্লব চন্দ্র শুভর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করে তিনি বলেন, সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহতদের সরকারি খরচে চিকিৎসা দিতে হবে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা ইয়াকুব আলী চৌধুরী, মাওলানা মো. ইউসুফ, মাওলানা মো. আতাহার আলী, মাওলানা তৈয়বুর রহমান, মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা মাহাবুবুর রহমান, সদস্য সচিব মাওলানা তাজুদ্দিন ফারুকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ফেসবুকে আল্লাহ ও মহানবীকে (সা.) কটূক্তির অভিযোগে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঈদগাহ মসজিদ চত্বরে তৌহিদি জনতার ব্যানারে রোববার সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয়। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে সকাল ১০টার মধ্যেই সংক্ষিপ্ত মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হলে, পরে আসা লোকজন মোনাজাত পরিচালনাকারী দুই ইমামের ওপর চড়াও হয়। এতে বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে গ্রামবাসী।