ত্রাণ বিতরণে তীক্ষè নজরদারি প্রয়োজন

90

করোনাভাইরাসের কারণে দেশে ২৬ মার্চ থেকে কার্যত লকডাউন চলছে। তবু আক্রান্তের হার দিন দিন বাড়ছে। প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে এবার পুরো দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সারা দেশে সন্ধ্যা ৬টার পর কেউ বাইরে যেতে পারবে না বলে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। করোনা সংক্রমণ রোধে একমাত্র পন্থা জনসাধারণের নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মানুষকে ঘরে রাখা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাফেরা করা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীও কাজ করছে। এর আগে গত সপ্তাহে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তিতেও সন্ধ্যা ৬টার পর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকে একই অনুরোধ করা হচ্ছে মানুষকে। চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ফলে ঘর থেকে বের হতে না পারায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমজীবীরা। খবরে প্রকাশ, কিছু দিন ধরে দেশের একাধিক জায়গায় করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে না খেয়ে থাকা লোকজন ত্রাণের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, করোনার প্রভাবে বিশ্ব ইতোমধ্যে একটা মন্দার মধ্যে চলে গেছে। বহু গতানুগতিক অর্থনীতি পিছিয়ে পড়েছে। তেলসহ বৈশ্বিক ভোক্তা চাহিদার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এসব খবর বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক। যার কারণে আমাদের রেমিট্যান্সনির্ভর, পশ্চিমামুখী রফতানি ও অবকাঠামোভিত্তিক অর্থনীতি একটা বড় সঙ্কটে পড়ে গেছে। সবচেয়ে বড় আঘাতটা লেগেছে শহরে ভিড় জমানো গ্রামীণ অভিবাসী শ্রমজীবী মানুষের ওপর। ‘কাজ নেই তো আয় নেই’ পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন তারা। এ অবস্থা কত দিন চলবে তা কেউ জানেন না। দিশেহারা বিশে^ করোনা সঙ্কটে দরিদ্রদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা জাতিসঙ্ঘ করতে না পারলে অন্তত তিন কোটি মানুষ অনাহারে মারা যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডবিøউএফপি)। আমাদের দেশেও অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কম নয়। বিবিএস সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে দেশে হতদরিদ্র ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫৮ লাখ। ২০১৯ সালের জুন মাস শেষে অতি গরিব বা হতদরিদ্র ব্যক্তির সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখের কিছুটা বেশি। বিবিএসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন ১৬ কোটি ৪৬ লাখ জনগোষ্ঠী আছে। সব মিলিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে সোয়া তিন কোটি মানুষ। তবে মহামারী নিয়ন্ত্রণে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, সামাজিক দূরত্বায়ন এবং অন্য নির্দেশগুলোতে যেসব পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ত্রাণ বিতরণের সময় কে কোন দল করে, তা বিবেচনায় না নিতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তা সত্তে¡ও এটি বলা অত্যুক্তি হবে না যে, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে একটি প্রবণতা লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছেÑ বহু মানুষ দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সব বিষয় বিবেচনা করতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। এতে প্রতীয়মান হয়, আমরা দেশে এখনো দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলতে পারিনি। তবে এত কিছুর পরও সবার প্রত্যাশা, করোনা দুর্যোগকালে ত্রাণ বিতরণকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শতভাগ আন্তরিকতা নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন; যাতে প্রকৃত অভাবীরা ত্রাণ পান। এ জন্য অবশ্যই প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কঠোর নজরদারি অতীব জরুরি।