ত্রাণের চাল ঘাড়ে নিয়ে বাড়ি বাড়ি মেয়র

396

মেহেরাব্বিন সানভী:
দিনের বেলা রাস্তায় ছিটাচ্ছেন জীবাণুনাশক ওষুধ মিশ্রিত পানি আর রাতের বেলা অসহায়, দুস্থ ও কাজহীন মানুষের বাড়ি বাড়ি যেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমানর চৌধুরী জিপু। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা যখন ঘর থেকেই বের হচ্ছেন না, ঠিক এই দুঃসময়ে পৌরবাসীর কথা চিন্তা করে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তিনি। বিশ্ব আজ কাঁপছে করোনা নামক প্রাণঘাতী ভাইরাসে। সারা বিশ্ব আজ থমকে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে অর্থনীতির চাকা। করোনাভাইরাসের প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশের মানুষকে করোনামুক্ত রাখার জন্য সরকার সব ধরনের জনসমাগম বন্ধ রাখাসহ গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মজীবী মানুষ এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ঘর থেকে তাঁরা কেউ বের হতে পারছেন না। করোনার প্রভাবে সবকিছু বন্ধ থাকায় সরকার, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। সরকারের উদ্দেশ্যে কোনো নি¤œ আয়ের মানুষ যেন না খেয়ে থাকে। সরকারের সেই মহতি উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করছেন চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু।
দিনের বেলায় নিজে গাড়ি চালিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটাচ্ছেন তিনি। সরকারের দেওয়া অর্থ সাহায্য নিতে এসে যাতে সরকারের নিষেধাজ্ঞা বাইরে বেরোনো বা জনসমাগম না হয়, সেজন্য রাতের বেলা নিজে অসহায়, দুস্থ ও কাজহীন মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। কোথাও নিজে গাড়ি চালিয়ে আবার কোথাও মাথায় ত্রাণ নিয়ে অসহায়ের বাড়িতে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে হাসি ফোটাচ্ছেন হাজারো মানুষের মুখে।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় মোট ৩৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে ৩০ টন চাল দেওয়া হয়। সেই ৩০ টন চাল ১০ কেজি করে ৩ হাজার মানুষের বাড়িতে পৌঁছানো হয়। বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ করা শেষ হলে মাঝখানে কয়েকদিন চাল বিতরণ বন্ধ থাকে। গত সোমাবার আবার সরকারিভাবে ৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হলে, গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে পুনরায় চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, করোনায় সারা বিশ্ব আজ স্থবির। সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেউ না খেয়ে থাকবে না। তাই মানুষের বাড়ি বাড়ি যেয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। রাতে কেন চাল বিতরণ করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দিনের বেলা চাল দিলে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। এতে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকতে পারে। তাই মানুষের বাড়ি বাড়ি রাতে চাল পৌঁছে দিচ্ছি। চালের বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে অসহায়, দুস্থ ও কাজহীন মানুষের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় কেউ না খেয়ে থাকবে না। আমরা চেষ্টা করছি, মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার। পৌর মেয়র হিসেবে তিনি সাধারণ মানুষকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই সরকার দেশের কথা ভাবে। মানুষের কথা ভাবে। কেউ না খেয়ে থাকবে না। খাদ্য আপনার বাড়ি পৌঁছে যাবে। নিজের নিজের ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন।