তিন শতাধিক ফলন্ত পেপে গাছ কেটে সাবাড়!

17

প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ:
ধার-দেনার মাধ্যমে আড়াই বিঘা জমিতে পেপে চাষ করেছিলেন। খেতে পেপেও ধরেছিল বেশ। সপ্তাহ খানেক পরেই পেপে বিক্রি করে ধার-দেনা পরিশোধ করতে পারতেন। কিন্ত ফলন্ত ৩ শতাধিক পেপে গাছ গত শুক্রবার দিবাগত রাতে কে বা কারা কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। এখন কী করে সারা বছর সংসার চালাব বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের বর্গাচাষী মাজেদুল ইসলাম। তিনি উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের মল্লিক মণ্ডলের ছেলে।
কৃষক মাজেদুল ইসলাম জানান, ‘নিজেদের তেমন একটা জায়গা-জমি না থাকায় বেথুলী গ্রামের স্কুলশিক্ষক আব্দুল জলিলের আড়াই বিঘা জমি প্রতিবিঘা বছরে ১০ হাজার টাকায় ৩ বছরের চুক্তিতে বর্গা নিয়ে পেপে চাষ করেছি। নিজের সন্তানের মতো লালন করে বড় করেছি। পরিচর্যার করতে এ পর্যন্ত আরও লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। কিন্ত ফলন্ত সে পেপে গাছগুলো রাতের আধারে কেটে দিয়েছে। একটি পেপেখেত থেকে কমপক্ষে ৩ বছর পেপে পাওয়া যায়। এ খেত থেকে ৩ বছরে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা আসত। কিন্ত এখন আমার সব শেষ।’ তিনি চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, এ কেমন শত্রুতা?
ওই গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ জানান, ‘শনিবার সকালে খবর পেয়ে আমি মাজেদুলের খেতে গিয়েছিলাম। দেখলাম ফলন্ত গাছগুলো মাটিতে পড়ে আছে। আর পাশেই বসে অঝোরে চোখের পানি ফেলছেন কৃষক মাজেদুল।’ তিনি আরও বলেন, লোকটা কঠোর পরিশ্রমী। খুব কষ্ট করে মাঠে পরের জমি বর্গা নিয়ে সবজির চাষ করে থাকেন। কিন্ত রাতের আধারে মানুষ শত্রুতা করে প্রায় তিন শতাধিক ফলন্ত পেপে গাছ কেটে দিয়েছে। যে খেতটি কেটেছে, তার তো কোনো লাভ হয়নি। কিন্তু কৃষক মাজেদুলের বড্ড ক্ষতি হয়ে গেছে। মাজেদুলের কোনো শত্রু থাকতে পারে। কিন্তু ভরা খেতের গাছ কেটে দেওয়া এ কেমন শত্রুতা?
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা. মাহাফুজুর রহমান মিয়া জানান, থানায় এখনও কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেননি। তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকের ভরা খেত কেটে দেওয়ার মতো ক্ষতি পুশিয়ে উঠার নয়। আমি এখনই পুলিশ পাঠাচ্ছি।’