তিন ফার্মেসিকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা

11

ঝিনাইদহে সিন্ডিকেট গঠন করে ওষুধের গলা কাটা মূল্য আদায়
ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহে আগে ৫-১০ পার্সেন্ট মূল্য ছাড়ে রোগীরা ওষুধ কিনতে পারলেও কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট সমিতির বেঁধে দেওয়া নিয়মে ওষুধ বিক্রি করতে ওষুধের ফার্মেসিগুলোকে বাধ্য করা হয়েছে। এ নিয়ে সারা শহরজুড়ে ক্ষোভ আর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। সেই অভিযান চলাকালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ছয় মাস বা এক বছর পর্যন্ত খেলে তা স্বাস্থের জন্য কোনো ক্ষতি হবে না বলে মন্তব্য করেন ঝিনাইদহ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান। এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, কোনো ক্রমেই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়া যাবে না। মেয়াদ শেষ হলে ওষুধ যে উপাদান দিয়ে তৈরি হয়, তার গুণমান নষ্ট হয়ে যায়। যা খেলে মানবস্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতির হতে পারে।
তবে সহকারী পরিচালক নাজমুল বলেন, তিনি এমন কোনো কথা বলেননি। ফেসবুকে যে বক্তব্য এসেছে, তা অসম্পূর্ণ। পুরো বক্তব্য এলে বিতর্কের অবসান ঘটতো। জানা যায়, প্রায় এক মাস যাবৎ জেলা শহরের বিভিন্ন ওষুধ ফার্মেসিতে পূর্বের ৫% বা ৭% কমিশনে ওষুধ বিক্রি বন্ধ করে দেন বিক্রেতারা। পরে তারা কোম্পানির এমআরপি রেটে বিক্রি শুরু করেন, যা কিনতে গিয়ে অনেকটা নাভিশ্বাস ওঠে ক্রেতাদের মধ্যে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার শহরের মাসুদ ফার্মা, তাজমহল, আক্তার, পান্না, নিউ সালেহা, সিদ্দিক, আলহেরাসহ প্রায় ১৫টি ফার্মেসিতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এদের মধ্যে মাসুদ ফার্মা, তাজমহল ও আক্তার ফার্মেসিতে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরফানুল হক। এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডল, জেলা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ইরফানুল হক জানান, সরকারি নির্দেশনা না থাকলেও ফার্মেসিতে কমিশন বাদে এমআরপি রেটে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ঘটনার সত্যতা পেয়ে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় শহরের মাসুদ ফার্মাকে ২ হাজার, আক্তার ফার্মেসিকে ৫ হাজার ও তাজমহল ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা জারিমানা করা হয়। সে সময় বাকিদের সতর্ক করা হয়েছে যেন ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম না করা হয়।
সাধারন মানুষ অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন এমন ইচ্ছামত বিক্রেতারা ওষুধ বিক্রি করে আসছে, কিন্তু ওষুধ প্রশাসন কোনো তদারকি করে না। ঢাকাসহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় ৫%, ৭ %, ১০ % হারে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু ঝিনাইদহে এর ব্যতিক্রম। সরকারের উচিত ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে এ বিষয়ে তদারকি করা এবং যারা এর সাথে জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনা।