তিন উপপরিচালকসহ চারজন বরখাস্ত

19

প্রায় ৩ কোটি টাকার ধানের বীজ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত
ঝিনাইদহ অফিস:
অসৎ উদ্দেশ্যে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের ১২৯ মেট্রিক টন ধানের বীজ ঝিনাইদহের দত্তনগর কৃষি খামার থেকে বিক্রির জন্য যশোর পাঠানোর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দত্তনগর কৃষি খামারের ৩ উপপরিচালকসহ মোট ৪ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন গোকুলনগর খামারের তপন কুমার সাহা, করিঞ্চার ইন্দ্রজিৎ চন্দ্র শীল, পাথিলা কৃষি খামারের আক্তারুজ্জামান তালুকদার ও যশোর বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রের উপপরিচালক মো. আমিন উল্যা। বিএডিসির সচিব আব্দুল লতিফ মোল্লা গতকাল সোমবার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আদেশ দেন। বিএডিসির ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সচিব আব্দুল লতিফ মোল্লা স্বাক্ষরিত ১২.০৬.০০০০.২০৩.২৭.২৮৩.১৯.৭২১/৭২২/৭২৩ ও ৭২৪ নম্বর স্মারকের চিঠিতে বলা হয়েছে, বিধি বহির্ভূতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য গোকুলনগর, পাথিলা ও করিঞ্চা বীজ উৎপাদন খামারে ২০১৮-১৯ উৎপাদন বর্ষে কর্মসূচি বহির্ভুত অতিরিক্ত ১২৯.২২ মেট্রিক টন এসএল-৮ এইচ হাইব্রীড জাতের ধান বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র যশোরে প্রেরণ করেছেন। আপনি-আপনারা অতিরিক্ত বীজ উৎপাদনের পরিমাণ নিয়মানুযায়ী মজুদ ও কাল্টিভেশন রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করেননি। এমনকি অতিরিক্ত কোনো বীজ প্রেরণের কোনো চালান বা তথ্য প্রমাণ খামারে রাখেননি। আপনার উক্ত ধান বীজ অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেরা আত্মসাৎ করার জন্য সংরক্ষণ ও উৎপাদনবিষয়ক প্রকৃত তথ্য গোপন করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়। যেহেতু আপনাদের এহেন কার্যকলাম বিএডিসি কর্মচারী চাকরি প্রবিধাণমালা ১৯৯০ এর ৩৯ (ক)(খ)(চ) দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, চুরি, আত্মসাৎ, তহবিল তছরুপ ও প্রতারণার সামিল। ফলে আপনি বা আপনাকে ১৯৯০ এর ৪৫ (১) বিধি মোতাবেক সংস্থার চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপন (খামার) বিএডিসি ঢাকা দপ্তরে সংযুক্তি করা হলো। এ সময়ে সাময়িক বরখাস্তকালীন বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারেন না।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর গোকুলনগর, পাথিলা ও করিঞ্চা বীজ উৎপাদন খামার থেকে কৌশলে প্রায় ৩ কোটি টাকার ১২৯.২২ মেট্রিক টন ধান চুরি করে বিক্রির জন্য পাঠানো হলে ধরা পড়ে যান ওই ৩ উপপরিচালক। বিষয়টি তদন্ত করতে এসে সত্যতা পান তদন্ত কর্মকর্তারা। প্রতিবছর এভাবে কোটি কোটি টাকার ধান বীজ পাচার করা হয় বলে খামারের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়।