তাসাউফের পরিচয়

298

ধর্ম ডেস্ক: আল্লাহতায়ালা মানুষকে বাহ্যিক কিছু নির্দেশনা পালনের পাশাপাশি আত্মিক কিছু বিষয় থেকেও বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন হিংসা, অহংকার, বিদ্বেষ, লৌকিকতা-এসব থেকে অন্তরকে পরিচ্ছন্ন রাখা মুমিনের ওপর ফরজ। অন্তরকে সব ধরনের অপবিত্রতা থেকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা থাকতে হবে সবার মধ্যে। যিনি নির্ভুল ইলমের অধিকারী, বিশ্বাস যার বিশুদ্ধ, সুন্নতের ওপর যিনি অটল-অবিচল এবং নিজেকে যিনি কোনো আল্লাহওয়ালার কাছে ন্যস্ত করার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি করেছেন; এমন একজন মুত্তাকি আলেমের সংশ্রবে থেকে চরিত্র গঠন করতে হবে। পবিত্র কোরানের ভাষ্যমতে, চরিত্র গঠনের সহজ পথ এটাই এবং এটাই তাসাউফ বা পীর-মুরিদি। রাসুল (সা.)-এর দুনিয়াতে আসার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষের আখলাককে পরিশুদ্ধ করা। এটা দীক্ষা ও পরিচর্যার মাধ্যমে অর্জিত হয়। ইসলামি জ্ঞানভা-ারে ‘তাসাউফ’ নামক একটি প্রসিদ্ধ শাস্ত্র আছে, যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাহ্যিক আমলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি শিক্ষা দেয়া। অনেকে মনে করেন, ইসলামে তাসাউফ বলতে কিছু নেই, এটা ঠিক নয়। আবার তাসাউফ নিয়ে অতি বাড়াবাড়ি করাও উচিত নয়। প্রকৃত তাসাউফ হলো চরিত্রকে শোধরানো এবং অসৎ স্বভাবগুলো থেকে আত্মরক্ষার উপায় সম্পর্কে জানা। কোরান-হাদিসের একাধিক স্থানে চরিত্র সংশোধনের দীক্ষা দেয়া হয়েছে। হাদিসে আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি মানুষের চরিত্রকে শুদ্ধ করে তাদের উত্তম চরিত্রের পুণ্যতায় নিয়ে আসার জন্য প্রেরিত হয়েছি।’ সাহাবায়ে কেরাম নিজেদের রাসুল (সা.)-এর কাছে সোপর্দ করে দিয়েছিলেন। এ জন্য তারা পরিণত হয়েছিলেন সোনার মানুষে। আজ পর্যন্ত তাদের মতো কোনো মানুষ দুনিয়াতে আসেনি, কেয়ামত পর্যন্ত আসবেও না। সাহাবায়ে কেরাম আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র গঠনের জন্য অশেষ কষ্ট-মুজাহাদা করেছেন। আধ্যাত্মিক সাধনার দীক্ষাগুরুরাও এ কাজই করেন এবং করিয়ে থাকেন। কোরানে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, ‘হে ইমানদাররা! আল্লাহকে ভয় কর। তাকওয়া অবলম্বন কর। তাকওয়া অবলম্বনের সহজ পদ্ধতি হলো, মুত্তাকিদের সংশ্রব গ্রহণ কর।’ এখানে আল্লাহ আমাদের চরিত্র গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। আখলাকের উদ্দেশ্য হলো বাতেনের আমল। আর বাতেনের আমল শুদ্ধ করার সহজ পথ হলো আল্লাওয়ালাদের সংশ্রব অবলম্বন করা। যার প্রতি আপনার আস্থা ও ভক্তি আছে তার কাছে নিজেকে সোপর্দ করে দিন। তার কথামতো জীবন পরিচালনা করুন। এতে আপনি উভয় জগতে সফল হবেন। আর তাসাউফের সারকথা এটাই।