তামাক পণ্য উৎপাদন-বিপণন বন্ধের নির্দেশনা

53

সমীকরণ প্রতিবেদন:
সব তামাক কোম্পানির উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও তামাকপাতা ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা ও বিশেষ অনুমতিপত্র প্রত্যাহারের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী যুগ্ম সচিব মো. খায়রুল আলম শেখ স্বাক্ষরিত এই চিঠি দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চলমান অবরুদ্ধ অবস্থায় তামাক কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় বিশেষ অনুমতি দেয়ায় ‘পরিস্থিতি জটিল হয়েছে’। তাই কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের দেয়া অনুমতিপত্র প্রত্যাহার করতে আহ্বান জানিয়েছে তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল। এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের চিঠিতে বলা হয়, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাককে কোভিড-১৯ সংক্রমণ সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার কথা বলছে। ধূমপানের কারণে শ্বাসতন্ত্রের নানাবিধ সংক্রমণ এবং কাশিজনিত রোগ তীব্র হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাধিক গবেষণা পর্যালোচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের কোভিড-১৯ সংক্রমণে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। গবেষণা দেখা গেছে, কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ধূমপায়ীর মৃত্যুঝুঁকিও ১৪ গুণ বেশি।” বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ সংক্রমণ ‘ভয়াবহ আকার’ ধারণ করেছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা খায়রুল লিখেছেন, “স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ক্রমবর্ধমান কোডিড-১৯ রোগ প্রতিরোধে, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা সেবা প্রদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের তামাক কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় বিশেষ অনুমতি দেওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। লকডাউনেওে তামাক কোম্পানিগুলো শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার ‘অজুহাতে এ আইন লঙ্ঘন করে চলেছে’ বলে চিঠিকে অভিযোগ করা হয়।