ঢাকা সিটি নির্বাচন, ভোটারের আস্থা ফিরল না

41

অতীতের পথ ধরেই আমরা অগ্রসর হচ্ছি। বিতর্কিত নির্বাচনের সংস্কৃতি থেকে ঢাকা সিটি নির্বাচনও বের হয়ে আসতে পারেনি। যার কারণে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারেও তরুণসহ ভোটারদের আস্থা ফেরাতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশীলসমাজ ও স্থানীয় সরকার বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা ও শঙ্কা দুই-ই ছিল। তবে নানা মহলে শঙ্কার দাগটাই ছিল মোটা। বড় ধরনের সঙ্ঘাত-সংঘর্ষ ছাড়া এই নির্বাচন সম্পন্ন হলেও ভোটারের আস্থা ফেরানোর যে সুযোগ ইসির সামনে আবার এসেছিল, তারা তা কাজে লাগাতে পেরেছে বলে মনে হয় না। বিতর্কের মুখে ইভিএম ব্যবহারের কারণে ভোটারের অনীহা আরও বেশি ছিল। যারাই ভোট দিতে গেছেন তাদের কম-বেশি আঙুলের ছাপ না মেলায় বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে। এই ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার বাইরে সিইসি নিজেও নন। পাশাপাশি ভোট প্রদান ছিল অনিরাপদ। একজন ভোট দিয়ে যাওয়ার পরেও বেশি সময় ধরে ব্যালট ইউনিটে তার ভোটদান দৃশ্যমান থাকে। এতে পরবর্তী ভোটার দেখতে পান তিনি কোথায় বা কাকে ভোট দিয়েছেন। ফলে এই ইভিএম নিয়ে একটা শঙ্কা আরও বদ্ধমূল হলো। শুধু ভোটারের হতাশাজনক অনুপস্থিতিই নয়, বিরোধী পক্ষের উপস্থিতিও কোনো ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়নি। সবই ছিল একপক্ষীয়। অর্থাৎ আরেকটি ‘ভোট পরীক্ষা’র যে কথা সংবাদমাধ্যমসহ নানা মহল থেকে বলা হয়েছিল, এর ইতিবাচক প্রতিফলন কতটা ঘটেছেÑ প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। গণতন্ত্রে নির্বাচনকে উৎসবে রূপ দেয়ার নজির বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও আছে। কিন্তু আমরা সে রকমটি দুর্ভাগ্যবশত কী কারণে এখন আর তেমনভাবে প্রত্যক্ষ করতে পারছি নাÑ এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সবাইকে দেশ-জাতির বৃহৎ স্বার্থ ও প্রয়োজনেই। বিতর্কিত নির্বাচন করার সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে আমাদের। ইভিএম নিয়ে যে শঙ্কা ভোটার ও দেশবাসীর মধ্যে আছে তা নির্বাচন কমিশন (ইসি) দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার মানে অতীতের পথ ধরেই আমরা অগ্রগর হচ্ছি। ইভিএম ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া ভালো। তবে এতে নিরাপত্তার ঝুঁকি ও শঙ্কা রয়েছে। ইভিএমকে আরও দ্রুতগতিসম্পন্ন ও আধুনিকায়ন করতে হবে। আমাদের ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ভোট প্রদানে একটা অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। তারা ভোট দিতে যেতে চায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে নানান ধরনের মন্তব্যের কারণেই এটার সৃষ্টি হয়েছে। অতীতের সংস্কৃতিও অন্যতম কারণ। তবে গণতন্ত্রের জন্য ভোটারদের উচিত নিজের অধিকার প্রয়োগ করা।