ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

13

সহযোগিতার ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারিত হোক
বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে চীন ব্যাপক সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ছে। ধারণা করা যায়, অদূর ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগ আরো বাড়বে। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উত্তরোত্তর এগিয়ে যাবে। এর অর্থ এই নয় যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্কে তা কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। দুই দেশের মানুষে মানুষে রয়েছে হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন। সে কারণেই বারবার হোঁচট খেলেও এই বন্ধন কখনো ছিন্ন হয় না। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আজ সর্বোচ্চ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা ছিল, সেগুলোর বেশির ভাগেরই সমাধান হয়েছে। আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে বাকি সমস্যাগুলোরও দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করা যায়। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্র ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে। মহাকাশ, পরমাণুবিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তিসহ দুই দেশের মধ্যে এখন ৬০টির বেশি কাঠামোয় এই সহযোগিতা চলছে। তারই সূত্র ধরে গতকাল ভারত থেকে দেশে এসে পৌঁছেছে ব্রড গেজ ট্রেনের ১০টি ইঞ্জিন। ভারত এই ইঞ্জিনগুলো অনুদান হিসেবে দিয়েছে। অতীতেও ভারত সাধ্যমতো বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ কিছুটা জটিল রূপ নেওয়ায় অনেকেই বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা করছেন। এর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন করার বিষয়টিকেও অনেকে অন্যভাবে উপস্থাপন করার প্রয়াস নিচ্ছেন। এ সবই অলীক কল্পনা। চীন ও ভারত দুই বৃহৎ দেশ। সীমান্ত বিরোধ সত্ত্বেও দেশ দুটির মধ্যে বহু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সমঝোতা ও সহযোগিতা রয়েছে। সাম্প্রতিক বিরোধ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এটা ঠিক, পাকিস্তানের সঙ্গেও আমরা ভালো সম্পর্ক চাই। তার আগে বাংলাদেশে পরিচালিত গণহত্যার জন্য তাদের ক্ষমা চাইতে হবে এবং সম্পদের বণ্টন নিয়ে কথা বলতে হবে। পাকিস্তানিদের গণহত্যার হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে ভারত এগিয়ে এসেছিল। আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে তাদেরও সাত হাজারের বেশি সেনা প্রাণ দিয়েছিল। এক কোটিরও বেশি মানুষকে তারা আশ্রয় দিয়েছে, খাইয়ে-পরিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে। কাজেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবলই কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক নয়। এই সম্পর্ক অভিন্ন ঐতিহ্যের, পারস্পরিক সহমর্মিতার এবং রক্তের বন্ধনে বাঁধা। এই সম্পর্ক এত সহজে ছিন্ন হওয়ার নয়। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ ও ভারতের এই সম্পর্ক উত্তরোত্তর আরো শক্তিশালী হবে এবং উভয় দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এগিয়ে যাবে। শুধু দ্বিপক্ষীয় নয়, নেপাল, ভুটানকে নিয়ে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার যে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, তাও ক্রমে আরো বিস্তৃত হবে। আমরা চাই, প্রতিবেশী দুই দেশ আঞ্চলিক উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে আরো ঘনিষ্ঠভাবে এগিয়ে যাক।