ডেঙ্গু পরীক্ষায় কৃত্রিম সংকট

43

পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বাত্মক উদ্যোগ নিন
অনৈতিক মুনাফা অর্জনের প্রবণতা নতুন নয়। বৃষ্টি, বন্যা, হরতাল, অবরোধ কোনো একটি অজুহাত পেলেই এক শ্রেণির ব্যবসায়ী জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয়। অত্যন্ত দুঃখজনক যে দেশব্যাপী ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার নিয়েও এক শ্রেণির ক্লিনিক ব্যবসায়ী একই ধরনের অনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। ডেঙ্গু পরীক্ষা-নিরীক্ষার কিট, রি-এজেন্ট বা কাঁচামাল সংকটের কথা বলে রোগীদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু নিয়ে বিদ্যমান আতঙ্কের মধ্যে তা একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, যেদিন থেকে ডেঙ্গুর চারটি পরীক্ষার হ্রাসকৃত ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, সেদিন থেকেই এই সংকটের কথা বলা শুরু হয়েছে। কিছু ক্লিনিকে তার পরও অতিরিক্ত ফি নেওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের জরিমানাও করেছেন। এসব কারণে ক্লিনিকগুলো কাঁচামাল সংকটের অজুহাতে রোগীদের এড়াতে চাইছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কড়া নজরদারি থাকা প্রয়োজন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের কারো কারো মতে, কোনো ক্লিনিক রোগীদের ফিরিয়ে দিলে বুঝতে হবে ওই ক্লিনিকের উদ্দেশ্য সৎ নয়। বাজারে এনএস-১ পরীক্ষা উপকরণের কিছুটা ঘাটতি আছে। কিন্তু এটিই ডেঙ্গু শনাক্তকরণের একমাত্র পরীক্ষা নয়। কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) এবং আরো কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু শনাক্ত করা যায়। তাই রোগী ফিরিয়ে দেওয়াটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আর এনএস-১ উপকরণের ঘাটতি মোকাবেলায় গতকালই ৩০ লাখ পরীক্ষা উপকরণ ঢাকায় পৌঁছার কথা। কিন্তু অনেক ক্লিনিক কম মুনাফায় এই পরীক্ষা করতেই আগ্রহী নয়। আগে এনএস-১ টেস্টের একটি উপকরণের পাইকারি দাম নেওয়া হতো ৪৫০ টাকা। সরকার ভ্যাট, ট্যাক্সসহ আরো কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ায় এখন দাম নেওয়া হয় ৩০০ টাকা। ৫০০ টাকায় নির্ধারিত দামে পরীক্ষা করলেও ক্লিনিকের মুনাফা হয় ২০০ টাকা; কিন্তু তারা এতে সন্তুষ্ট নয়। জাতীয় দুর্যোগের মতো পরিস্থিতিতেও এমন অনৈতিক মুনাফা অর্জনের প্রবৃত্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়।