ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত মানুষ

25

ডেঙ্গু ক্রমে মহামারির রূপ নিতে যাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত রক্ত পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে। এদিকে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে দুই সিটি করপোরেশন কার্যত ব্যর্থ। তারা যে ওষুধ ছিটায়, তার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নতুন করে কার্যকর ওষুধ আনার ব্যাপারেও তাদের দীর্ঘসূত্রতা বেদনাদায়ক। নানা নিয়মের কথা বলে কার্যকর ওষুধ আমদানিতে তারা কেবল সময়ক্ষেপণ করছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, মানুষের জীবন বড়, নাকি তাদের নিয়ম বড়। অবস্থা শুনে হাইকোর্টও ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, আপনারা কী ওষুধ ছিটাবেন, কতবার ছিটাবেন, সেসব আপনাদের ব্যাপার। আমরা চাই, মশা মরুক। এক সপ্তাহের মধ্যে মশা মারার অগ্রগতি সম্পর্কে লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলেছেন হাইকোর্ট।
ডেঙ্গু এখন রীতিমতো এক আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। সিটি করপোরেশনের অজানা থাকার কথা নয় যে জুন-জুলাই থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হয়ে যায়। চলে অক্টোবর পর্যন্ত। তাদের কাছে থাকা ওষুধ কার্যকর নয় সে কথাটি তারা এখন বলছেন কেন? আগেই তারা কেন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হলেন না কেন? তার পরও তাঁরা যে ধরনের গড়িমসি করছেন, তাতে ডেঙ্গুর মৌসুম এভাবেই পার করে দিতে চান বলে মনে হচ্ছে। তাঁদের কার্যকর ওষুধ আসতে যদি অক্টোবর পেরিয়ে যায়, তার জন্য কত মূল্য জনসাধারণকে দিতে হবে তা তাঁরা ভেবে দেখেছেন কি? কথা হয়েছিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ আনা হবে। আইসিডিডিআরবি একটি ওষুধের পরামর্শ দিয়েছিল। আরো কেউ কেউ এমন পরামর্শ দিয়েছিল। জরুরি ভিত্তিতে একটি কমিটির মাধ্যমে এ কাজটি করা যেত। তাও করা হয়নি। আমরা দুই সিটি করপোরেশনের কাছে আরো দায়িত্বশীলতা আশা করি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতাও অনেক বেশি জরুরি। ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার বদ্ধ পানিতে বংশবিস্তার করে। অনেকের ঘরে পাত্রে জমিয়ে রাখা পানিতে, ফ্রিজের পেছনে জমে থাকা পানিতে, ভাঙা কমোড, এসি, ফুলদানি, ফুলের টবে জমিয়ে রাখা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে থাকে। আবার অনেকেই বাড়ির আঙিনায়, দুই বাড়ির মাঝখানে কিংবা সানসেডে অনেক পরিত্যক্ত ভা- বা কৌটা ফেলে রাখে, যেগুলোতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতেও এডিস মশা বংশবিস্তার করে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনগুলো নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে বিশেষ অভিযান চালাতে পারে। শুধু ঘরের বাইরে বা নালা-নর্দমায় ওষুধ ছিটিয়ে এডিস মশা নিধন করা যাবে না। আমরা মনে করি, নাগরিক সচেতনতা ও মশা নিধনে কার্যকর উদ্যোগই পারে ডেঙ্গু সমস্যার দ্রুত সমাধান দিতে।