ডুগডুগী পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই!

42

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা

আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম
পশুর হাটে গিজগিজ করছে পশু আর মানুষ
একজন আরেকজনের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে
অধিকাংশ লোকের মুখে মাস্ক নেই
হাটের বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে খোশগল্প
পরবর্তী হাট থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন ইউএনও

প্রতিবেদক, জয়রামপুর :
পশুর হাটে গিজগিজ করছে পশু আর মানুষ। একজন আরেকজনের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে। কেউ দরদাম করছেন, কেউ পশু কিনে ট্রাকে তুলছেন। অধিকাংশ লোকের মুখে মাস্ক নেই, কারও কারও মাস্ক থাকলেও তা নামানো থুতনিতে। সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ঝুঁকি নিয়ে পশু কেনাবেচা চলছে। গতকাল সোমবার দুপুরে দামুড়হুদার ডুগডুগী পশুর হাটে এ দৃশ্য দেখা গেছে। ফলে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার হাটবাজারের মধ্যে সবচেয়ে বড় হাট ডুগডুগী পশুর হাট। সারা বছরই এ পশুহাটে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম থাকে। কিন্তু আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এ হাটে বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম। গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাটে প্রায় সব ধরনের দোকান খুলে গেছে। মৌসুমি ফলের দোকান ও মুদিখানার দোকানে যথেষ্ট ভিড়। হাটের বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে অনেকেই খোশগল্প করছেন। তাঁদের অনেকের মুখে মাস্ক নেই। আলু ও সবজির বাজার ঘিরে কেনাকাটা করছেন প্রচুর মানুষ। মাংসের বাজার, হাঁস-মুরগির বাজারে গিয়ে মনে হলো যেন কেনাকাটার উৎসব চলছে। গা ঘেঁষে হাঁস-মুরগি, মাংস কিনছেন অনেকে। সবকিছু স্বাভাবিক সময়ের মতো।
হাটে গরু বিক্রি করতে আসা মুন্সিগঞ্জের আল-আমিন (২৬) নামের এক বিক্রেতা বলেন, ‘মেলা দিন থেক বাড়িতে আছি। টাকা-কড়ি নাই। আইজ হাটেতে গরু বেচতি আইছি। কিন্তু হাটে এসে মনে হচ্চে মানুষের কোনো করোনার ভয় নাই। ঠেলাঠেলি করে কেনাবেচা চলছে।’ হাটে বাজার করতে আসা আইয়ুব আলী নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘ভাই, সবকিছু স্বাভাবিক সময়ের মতোই চলছে। কেউ তো সামাজিক দূরত্ব মানছে না। অনেকে মুখে মাস্কও ব্যবহার করছেন না। ব্যবসায়ীরাও ক্রেতাদের কিছু বলছেন না। হুড়াহুড়ি করে গা ঘেঁষে কেনাকাটা চলছে।’
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ওই বাজারের একটি চায়ের দোকানে ৫০-৬০ জনকে চা পান করতে দেখা যায়। কারও মুখেই মাস্ক নেই। আসাদুল ইসলাম নামের একজন বলেন, ‘অনেক দিন দোকানে বসে চা খাওয়া হয় না। তাই একটু করোনা নিয়ে গল্পগুজব করছি। মাস্ক আমার ব্যাগে আছে।’
ডুগডুগী পশুহাটের এ দৃশ্য দেখে এলাকার সচেতন মহলের এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘আমার বাড়ি পশুহাটের সঙ্গে হওয়ায় আমি এবং আমার পরিবারের লোকজনের জরুরি প্রয়োজনে হাটে আসতে হয়। এসব জনসমাগম ঠেলে ডুগডুগীর মেইন রাস্তায় প্রতিনিয়ত যেতে হয়। কিন্তু পশুহাটের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব না থাকায় আমরা চরম ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছি।’
এ বিষয়ে হাটের ইজারাদার শাহ মো. জনি হোসেনের সঙ্গে পশুহাটের সার্বিক বিষয় সম্পর্কে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তিনি গাড়ির মধ্যে আছেন। পরে তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন। কিন্তু পরে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীনের কাছে এ বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং হাটে আসা ব্যক্তিদের করোনা সচেতনতা সম্পর্কে বললেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। এতে করে করোন সংক্রমণের ঝুঁক বাড়ছে।’ তাই বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা রহমান জানান, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি এবং বিষয়টি নিয়ে ডিসি স্যারের সঙ্গে আলোচনাও করেছি। পরবর্তী সপ্তাহে হাট বসলে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’