ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা চালু করল ভাইবার

53

প্রযুক্তি প্রতিবেদন:
জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ভাইবার শুধু মেসেজিং সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এবার নতুন চ্যাটবট পেমেন্ট সেবা উন্মোচন করেছে। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ফিনটেক ব্যবসায়িক খাতে প্রবেশ করল প্রতিষ্ঠানটি। গুগল পেসহ অন্যান্য স্থানীয় মোবাইল ওয়ালেট সেবাদানকারীদের মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য ও বিভিন্ন সেবার জন্য পেমেন্ট করতে পারবেন ভাইবার ব্যবহারকারীরা। মেসেজিং ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম সংখ্যা ও এর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। ব্যবহারকারীরা এসব প্ল্যাটফর্মে এখন ইমোজি, গিফ ও ভিডিও কল ছাড়াও অতিরিক্ত নানা সুবিধা খুঁজছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পেমেন্ট, ফুড ডেলিভারি, ইত্যাদির জন্য আলাদা আলাদা অ্যাপ ব্যবহার করা অপ্রয়োজনীয়। সে প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে এবং সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভাইবার ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ভাইবারের চ্যাটবট পেমেন্ট ফিচারের ফলে ব্যবহারকারীরা সুরক্ষিত উপায়ে সরাসরি মার্চেন্টদের কাছ থেকে অনুমোদিত চ্যাটবটের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা ক্রয় করতে পারবে। সমর্থনযোগ্য ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড স্মার্টফোনের স্থানীয় ওয়ালেটে যুক্ত করে উক্ত পেমেন্ট সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। এ পেমেন্ট সুবিধা পাওয়া যাবে ভাইবারের নেটিভ চ্যাটবট অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসে (এপিআই) তৈরি যেকোনো চ্যাটবটে। মার্চেন্টদের দিক থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাদের এ ধরনের পেমেন্ট সেবাদাতার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে, ভাইবারে একটি চ্যাটবট তৈরি করতে হবে এবং এতে পেমেন্ট সুবিধা চালু করতে হবে। ইউলিটি বিল, ট্রান্সপোর্ট, ডেলিভারিসহ অন্যান্য আরো অনেক পণ্য ও সেবা সংক্রান্ত বিল ভাইবারের চ্যাটবট পেমেন্টস ফিচারের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। পেমেন্ট সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য এনক্রিপ্টেড থাকায় তা পুরোপুরি সুরক্ষিত ও নিরাপদ থাকবে এবং এসকল তথ্যে চ্যাটবট, ভাইবার কিংবা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষ অ্যাকসেস করতে পারবেনা। যেসব দেশে মোবাইল ওয়ালেট সেবা রয়েছে সেসব দেশে ভাইবারের চ্যাটবট পেমেন্টস ফিচার চালু করতে খুবই কম সময় লাগবে। প্রাথমিকভাবে ইউক্রেনে নতুন এই ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভাইবার। এরপর পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সহ অন্যান্য দেশেও চ্যাটবট পেমেন্টস ফিচার চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে ভাইবারের। এ প্রসঙ্গে ভাইবারের প্রধান নির্বাহী জ্যামেল আগাওয়া বলেন, ‘মেসেজিং অ্যাপের বাইরে গিয়ে নিজেদের বৈশ্বিক পর্যায়ে এন্ড-টু-এন্ড প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে, বিজ্ঞাপনের লক্ষ্য হিসেবে নয়। সুরক্ষা ও নিরাপত্তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়। সেটা শুধুমাত্র তথ্যকে বার্তায় রূপান্তরের বেলায়ই নয় বরং পেমেন্ট সহ ডিজিটাল যোগাযোগের অন্যান্য ক্ষেত্রেও সত্যি। ব্যবহারকারীরা যেন সুরক্ষিত ও বিকল্প উপায়ে পেমেন্ট সংক্রান্ত সেবা পেতে পারে তা নিশ্চিত করতেই আমরা কাজ করছি।’