ট্যাগ নং ২১৯

385

জাহিদ নাভেদ
মর্গে আইসবক্সে রাখা ছিল একটি লাশ। অনেকক্ষণ যাবৎ চেয়ে থেকে চেনা চেনা মনে হলো। খুব পরিচিত লাগলো চুল, চার আঙুলের কপাল, চওড়া নাক, কাঠিকাঠি লম্বা আঙুল, ঠোঁটে লেগে থাকা মুচকি হাসি সবকিছু। আমি এগিয়ে গেলাম, হাত ধরলাম কব্জির উপরেৃ পালস দেখতে চেয়েছিলাম বোধহয়।
আশ্চর্য! এত হিম যে অবাক হচ্ছিলাম। আমি নিজেও শীতল হয়ে যাচ্ছিলাম। দৃষ্টি ফেরালাম পায়ে, ছোট একটা ট্যাগ ঝুলছেৃ ২১৯ সংখ্যাটি লাল বা খয়েরি কালিতে লেখা। আমি ইনফরমেশন ডেস্কে রাখা রেজিস্টার যেটাতে লাশের বিশদ বিবরণ দেয়া থাকে, দেখার জন্য পা বাড়াই। দু’কদম আগিয়েছি, হঠাৎ পা দুটি ভীষণ ভারি মনে হলো, এতই ভারি আমি পা তুলতে পারছিলাম না। আমি আবার লাশের দিকে ফিরে গেলাম, চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম একচোখ অল্প একটু খোলা। ভয় পাচ্ছিলাম খুব, নিজের কপালে হাত রাখি, এসি রুম তাও আমার কপালের ঘামে হাত ভিজে গেল। আমি সম্বিৎ ফিরে পেলাম, মনে পড়লো, আমিও ঘুমের মাঝে কোনো সাড়াশব্দ পেলে এরকমভাবে একচোখ খুলে ফেলি। অবাক হলাম দ্বিতীয় বারের মতো। এবার অনেকটা জোর করেই হেটে গেলাম ইনফরমেশন ডেস্কে। সুন্দর মলাটে বাঁধাই করা রেজিস্টার। গোটাগোটা অক্ষরে লেখা প্রত্যেকের নাম, বয়স, মৃত্যুর কারণ। ২১৯ সংখ্যাটা ভুলিনি, বের করলাম।
ওখানে ঠিক এভাবে লেখা ছিলৃ
“নাম: বিবেক”
“বয়স: আনুমানিক ৩৩ বছর”
“মৃত্যুর কারণ: অপঘাত”