ট্যাংকার না ছাড়লে পাল্টা ব্যবস্থা

53

বিশ্ব ডেক্স :
জিব্রাল্টারে আটক ইরানি তেলবাহী সুপার ট্যাংকারটিকে শিগগিরই ছেড়ে না দিলে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার আবারও হুমকি দিয়েছে তেহরান। শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মৌসাভি বলেন, ‘এটা খুবই বিপজ্জনক খেলা, এর প্রতিক্রিয়াও আছে।’ পারস্য উপসাগরে বুধবার তিনটি ইরানি নৌকা একটি ব্রিটিশ তেলবাহী ট্যাংকারকে আটকানোর চেষ্টা করেছিল- যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এমন দাবির মধ্যেই তেহরান তাদের জব্দ ট্যাংকার ছেড়ে দেয়ার এ আহ্বান জানাল। সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স ইরানি ট্যাংকার আটকের পাল্টায় পারস্য উপসাগরে এ ‘হয়রানির’ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অনুমান পর্যবেক্ষকদের। ব্রিটিশ রাজকীয় যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস মন্ট্রোস’র তাড়া খেয়ে পরে ওই ইরানি বোটগুলো পিছু হটে। গত সপ্তাহে জিব্রাল্টার উপকূলে ইরানি সুপার-ট্যাংকার গ্রেস-১ ও এর সব কার্গো জব্দ করে ব্রিটিশ রাজকীয় মেরিন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ওই ট্যাংকারটি ইরান থেকে সিরিয়ায় অশোধিত তেল নিয়ে যাচ্ছে সন্দেহে এটিকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে তারা। এ ঘটনার জন্য যুক্তরাজ্যকে ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হতে পারে বলে গত বুধবারই হুশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করে দেশটির ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ তৈরির চেষ্টায় তাদের তেল রপ্তানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ওয়াশিংটনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র রাষ্ট্রগুলোর উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে। এসব নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ২০১৫ সালের চুক্তিতে বেঁধে দেয়া পারমাণবিক তৎপরতার সীমা লঙ্ঘন করতে শুরু করে ইরান। মে ও জুনে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় বেশ কয়েকটি তেল ট্যাংকারে হামলা হয়। এসব হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান তা অস্বীকার করে আসছে। গত মাসে হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নজরদারি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিতও করে ইরান। এর জবাবে ইরানে বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত থেকে সরে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বশেষ হরমুজ প্রণালি ও ইয়েমেন উপকূলের বাব আল-মানডাব প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য সামরিক জোট গঠনের উদ্যোগ নেয় ওয়াশিংটন। জাহাজ চলাচলে হুমকির মাত্রা বাড়াল যুক্তরাজ্য এদিকে, আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের জলসীমায় নিজেদের জাহাজ চলাচলের ওপর হুমকির মাত্রা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটি জানিয়েছে, হামলার হুমকি ‘গুরুতর’ পর্যায়ে রয়েছে। একদিন আগেই ওই অঞ্চলে ইরানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ ট্যাংকার আটকের চেষ্টার অভিযোগ এনেছিল যুক্তরাজ্য। ইরান তা অস্বীকার করলেও হুমকির মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায় রাখার ঘোষণা দিলো যুক্তরাজ্য। গত বুধবার ওমান ও পারস্য উপসাগরের মাঝামাঝি ‘স্ট্রেইট অব হরমুজে’ একটি ব্রিটিশ তেল ট্যাংকার প্রতিহতের চেষ্টা করায় একটি ইরানি নৌকাকে সরিয়ে দিয়েছে রয়্যাল নৌবাহিনীর একটি জাহাজ। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানি বিপস্নবী বাহিনীর পাঁচটি নৌকা ‘ব্রিটিশ হেরিটেজ’ ট্যাংকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। পরে একটি ব্রিটিশ নৌ-বাহিনীর জাহাজ চলে এলে নৌকাগুলো সরে যায়। এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলের উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিল যুক্তরাজ্য। দেশটির পরিবহন বিভাগ বলছে, উচ্চমাত্রার ঝুঁকি রয়েছে, এমন এলাকায় সব সময়ই যুক্তরাজ্যের জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা নির্দেশনা দিয়েছে তারা। হুমকির মাত্রা বলতে বোঝায়, ব্রিটিশ জাহাজগুলোকে ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। ইরানি নৌকাগুলোর কবলে পড়ার সময় ব্রিটিশ হেরিটেজ আবু মুসা দ্বীপের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। আবু মুসা বিতর্কিত জলসীমায় হলেও এইচএমএস মনট্রোজ আন্তর্জাতিক জলসীমাতেই ছিল। এর আগে নিজেদের একটি তেল ট্যাংকার ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছিল ইরান। তবে, তারা জাহাজ দখলে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এইচএমএস মনট্রোজ নামে ব্রিটিশ রণতরী যেটি কিনা বিপির মালিকানাধীন ট্যাংকারকে নিরাপত্তা দিচ্ছিল, সেটিকে ইরানের তিনটি নৌযান ও একটি জাহাজের মাঝখান দিয়ে চলতে বাধ্য করা হয়। ইরানের এই পদক্ষেপকে তিনি ‘আন্তর্জাতিক আইনের অবমাননা’ বলে উলেস্নখ করেছেন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেনি মরডন্ট বলেন, সরকার এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন এবং উত্তেজনা কমিয়ে ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক’ করতে ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেন, এই পরিস্থিতি ‘খুব সতর্কতা’র সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে।